লাউয়াছড়া বনে ৯ বগি রেখে চলে গেল পাহাড়িকা এক্সপ্রেস!
সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী আন্তনগর ‘পাহাড়িকা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের বগি সংযোগ বিচ্ছিন্ন (ক্যাপলিং টিয়ার) হয়ে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের গভীর বনের ভেতরে ৯টি বগি ফেলে রেখে চলে যাওয়ার এক আজব ঘটনা ঘটেছে। ইঞ্জিনসহ সামনের সাতটি বগি নিয়ে ট্রেনটি শ্রীমঙ্গলের দিকে চলে যাওয়ায় বনের নির্জন পরিবেশে কয়েক শতাধিক যাত্রী আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতরের রেললাইনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ট্রেনে থাকা ভুক্তভোগী যাত্রী কুমিল্লার বাসিন্দা জসিম জানান, সকাল ১০টার দিকে সিলেট স্টেশন থেকে ট্রেনটি চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। দুপুরের দিকে কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া বনের নির্জন এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ একটা ঝাঁকুনি অনুভব করি। কিছুক্ষণ পর খেয়াল করি, আমাদের ৯টি বগি বনের মাঝখানেই থেমে গেছে, আর ইঞ্জিনসহ সামনের অংশ বাকি বগি নিয়ে শ্রীমঙ্গলের দিকে চলে গেছে। দুপুর ২টা থেকে নারী-শিশু ও পরিবার-পরিজন নিয়ে বনের ভেতরে আটকা পড়ে আছি। কখন উদ্ধার পাওয়া যাবে জানি না।
গভীর বনের ভেতর হঠাৎ ট্রেন দুভাগে বিভক্ত হয়ে যাত্রীসহ বগি আটকে পড়ার খবরে সিলেটের সাথে ঢাকার রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার উপক্রম হয় এবং যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার গৌড় প্রসাদ দাস পলাশ জানান, দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে পা হাড়িকা এক্সপ্রেস ভানুগাছ স্টেশন অতিক্রম করে। এর প্রায় চার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার পর ট্রেনটির কাপলিং ছিঁড়ে বা কোনো কারিগরি ত্রুটির কারণে পেছনের ৯টি বগি আলাদা হয়ে যায়। বিষয়টি চালক তাৎক্ষণিক বুঝতে না পেরে সামনের বগিগুলো নিয়ে শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশ্যে চলে যান।
রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আরও জানান, খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল থেকে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন ফেরত এনে লাউয়াছড়ায় আটকে থাকা ৯টি বগি উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল নিয়ে যাওয়ার দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে যান্ত্রিক ত্রুটির মূল কারণ জানা সম্ভব হবে।

আহাদ মিয়া, মৌলভীবাজার (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ)