ফুটপাত পুনর্দখল হলে দ্বিগুণ শক্তিতে উচ্ছেদ : ডিএনসিসি প্রশাসক
ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং উচ্ছেদের পর কেউ পুনরায় ফুটপাত দখল করলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে কঠোর অভিযান পরিচালনা করবে। তিনি বলেন, জনগণের চলাচলের জন্য নির্ধারিত ফুটপাত উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। ফুটপাত পুনরায় দখলের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মিরপুর-১০ এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিদর্শনের সময় স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রশাসক এসব কথা বলেন।
এর আগে ডিএনসিসি প্রশাসক গতকালের উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে সংঘর্ষে আহত সাংবাদিক সিফাতের পশ্চিম শেওড়াপাড়ার বাসায় গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সমবেদনা জানান।
সাংবাদিক সিফাতের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে মিরপুর-১০-এর উচ্ছেদ এলাকা পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় জনগণ রাস্তায় নেমে এসে ডিএনসিসি প্রশাসকের পদক্ষেপকে স্বাগত জানান। তারা উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি মিরপুর-১০ এলাকায় স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসকের প্রতি অনুরোধ জানান।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রশাসক বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন পরিচালিত অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযানকালে সব ধরনের বাধা উপেক্ষা করে সত্য ও সঠিক সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছেন। এ সময় সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন সবসময় সাংবাদিকদের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
শফিকুল ইসলাম বলেন, ফুটপাতে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে যে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়েছে, তা চলমান থাকবে। এ অভিযান কখনো থামবে না। তবে উচ্ছেদ অভিযান ও হকারদের বিষয়ে কারও সুনির্দিষ্ট ও গঠনমূলক পরামর্শ থাকলে তা বিবেচনা করা হবে।
হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়ে প্রশাসক বলেন, হকারদের সঙ্গে আলোচনা করে ও তাদের সম্মতি নিয়েই বিকল্প স্থানে ব্যবসার সুযোগ তৈরি করা হয়েছিল। এ জন্য ২০৪টি রেজিস্ট্রেশন কার্ডের মাধ্যমে তাদের আয়-উপার্জনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু তারা সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী না চলায় আবার একই স্থানে অবৈধভাবে দোকান বসানোর চেষ্টা করছে।
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, হকাররা অবশ্যই ব্যবসা করবেন, তবে জনগণের চলাচলের ফুটপাত দখল করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে নয়। তাদের জন্য নির্ধারিত স্থানে তাদের ব্যবসা করতে হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রশাসক বলেন, সিটি করপোরেশনের নিয়ম ও আইন অনুযায়ী নাগরিকসেবা নিশ্চিত করা এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন যেকোনো এলাকায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। নাগরিকদের নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করতে যেকোনো সময় অভিযান পরিচালনা করা হবে। তবে এ বিষয়ে কারও সঠিক ও কার্যকর পরামর্শ থাকলে তা গ্রহণ করা হবে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, সিটি করপোরেশনের দলের নেতাকর্মীরা যদি ফুটপাত থেকে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকতেন, তাহলে অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হতো না। তিনি দাবি করেন, তার নেতাকর্মীরা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন।
প্রশাসক বলেন, যারা অবৈধ দখলদারদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে কথা বলছেন, তাদের বিষয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থ ও নৈতিকতার দিক বিবেচনা করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রতিটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সেখানে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে রাজধানী ঢাকাকে আরও সবুজ, পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন করে গড়ে তোলা হবে।
ডিএনসিসি প্রশাসক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনাকারী দলের সদস্যদের সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)