চাঁদাবাজির মামলায় ২ সাংবাদিক কারাগারে
পটুয়াখালীর বাউফলে সংখ্যালঘু পরিবারকে জিম্মি করে চাঁদাবাজির অভিযোগে করা মামলায় দুই সাংবাদিকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পটুয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. শহীদুল্লাহ জামিন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
দুই সাংবাদিক হলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি এনামুল হক ওরফে এনা (৩৫) ও দৈনিক জাগো জনতার বাউফল উপজেলা প্রতিনিধি মো. রিয়াজ (৩৭)।
মামলা সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৬ জুলাই সাংবাদিক ও ডিবি পুলিশ পরিচয়ে বাউফল উপজেলার খেজুরবাড়িয়া গ্রামে একটি হিন্দু বাড়িতে যান সাংবাদিক এনামুল, রিয়াজসহ চারজন। পরে তারা ওই পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জিম্মি করে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এরপর ২০ হাজার টাকায় রফাদফা হয়। ওই দিনই চাঁদার ১০ হাজার টাকা নগদ দেওয়া হয়, বাকি ১০ হাজার টাকা পরের দিন সকালে দেওয়ার কথা ছিল।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য রতন মণ্ডল গত ২৮ জুলাই বাউফল থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা করেন। মামলায় এনামুল হক এনা ও মো. রিয়াজের নাম উল্লেখ করে আরও পাঁচ-ছয়জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়।
গত ১ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। তদন্তে দুই সাংবাদিক চাঁদাবাজির ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকায় তাদের দুজনকে অভিযুক্ত করে ওই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয় বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইব্রাহিম।
বাদী পক্ষের আইনজীবী এপিপি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, মামলা হওয়ার পর আত্মগোপনে চলে যান দুই সাংবাদিক। পরে উচ্চ আদালত ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দেন। জামিনের মেয়াদ শেষে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে স্থায়ী জামিন আবেদন করেন তারা। জামিন আবেদেনের পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি-তর্ক শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার বাদী রতন মণ্ডল বলেন, তিন বছর আগে এক মুসলিম নারী প্রেমের সম্পর্কের কারণে এক হিন্দু ছেলেকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে ৮ মাসের একটি মেয়ে সন্তানও রয়েছে। পুরনো ঘটনাকে সামনে এনে সাংবাদিক ও ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন দুই সাংবাদিকসহ অজ্ঞতপরিচয় আসামিরা। চাঁদার টাকা না দিলে আগুন দিয়ে ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেয় তারা। পরে ২০ হাজার টাকায় রফাদফা হয়। এরপর স্থানীয়দের পরামর্শে মামলা করি। আদালত দুই আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। এতে আমরা সন্তুষ্ট।

এম.এ হান্নান, পটুয়াখালী (বাউফল-দুমকি)