আকস্মিক টর্নেডোর তাণ্ডবে ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড, খোলা আকাশের নিচে ক্ষতিগ্রস্তরা
সাতক্ষীরা সদর এবং আশাশুনি উপজেলায় গভীর রাতে আকস্মিক টর্নেডো ও মিনি ঘূর্ণিবায়ুর প্রচণ্ড তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বাতাসের প্রচণ্ড তোড়ে ভেঙে পড়েছে বেশ কয়েকটি বসতঘর এবং একটি সনাতন ধর্মীয় উপাসনালয়ের (মন্দির) ছাউনি উড়ে গেছে। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সহায়-সম্বল হারিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের ওপর দিয়ে হঠাৎ তীব্র ঘূর্ণিবায়ু বয়ে যায়। মাত্র কয়েক মিনিটের ঝড়ে ধুলিহরের যুগিপোতা এলাকায় তিনটি বসতবাড়ির চাল উড়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। একই সময়ে পার্শ্ববর্তী শুকদেবপুর এলাকার একটি প্রাচীন মন্দিরের টিনের চাল উড়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বর্ণনা দিয়ে বলেন, হঠাৎ চারদিক অন্ধকার হয়ে বিকট শব্দে ঘূর্ণিবায়ু শুরু হয়। দেখতে দেখতে বাড়িঘর ও মন্দিরের চাল বহু দূরে উড়ে যায়। গাছের ডালপালা ভেঙে পড়ে চলাচলের রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল।
অন্যদিকে, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে একই সময়ে আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের উত্তর বাইনতলা গ্রামে প্রচণ্ড বেগে আকস্মিক টর্নেডো আঘাত হানে। নিমেষের মধ্যে টর্নেডোর তোড়ে গ্রামের মৃত রহিম মোল্যার ছেলে দাউদ মোল্যা, আইয়ুব আলী মোল্যা, সাহেব আলী মোল্যা এবং তার ছেলে নয়ন মোল্যার মোট চারটি কাঁচা বসতঘর একেবারে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। উড়ে যায় ঘরের অ্যাসবেস্টসের ছাউনি ও বেড়া, নষ্ট হয়ে যায় ভেতরের আসবাবপত্র। এতে পরিবারগুলোর প্রায় দুই লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সর্বস্ব হারানো দাউদ মোল্যা আকুতি জানিয়ে বলেন, রাতের বেলা হঠাৎ বিকট শব্দে বাতাস শুরু হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই চোখের সামনে ঘরের চাল উড়ে চলে যায়। এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
ঘটনার খবর পেয়ে উত্তর বাইনতলা গ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন বড়দল ইউনিয়ন যুবদল নেতা শরিফুল ইসলাম শরীফ এবং জামায়াতের ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল গফুর সানা। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ব্যক্তিগত তহবিল থেকে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেন।
অন্যদিকে, সদর উপজেলার ধুলিহরে ক্ষয়ক্ষতির খবর পেয়ে শনিবার সকালে এলাকা পরিদর্শনে যান ধুলিহর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. তাকদীর আহসান রুবেল। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও মন্দির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সময়ের মধ্যে পুনর্বাসনের আশ্বাস দেন।
টর্নেডোর সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু জানান, ঘটনাস্থলের সার্বিক পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণে ইতোমধ্যে প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে।
আকস্মিক এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বর্তমানে ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে। তারা ঘরবাড়ি পুনঃনির্মাণ ও আশ্রয়ের জন্য সরকারসহ বেসরকারি সাহায্য সংস্থাগুলোর জরুরি মানবিক হস্তক্ষেপ চেয়েছে।

কে এম আনিছুর রহমান, সাতক্ষীরা (সদর-কলারোয়া-তালা ও ভোমরা)