চুরির অভিযোগে খুঁটিতে বাঁধা বাবা, রুটি-চা খাইয়ে দিল মেয়ে
বাজারে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে শক্ত করে বেঁধে রাখা হয়েছে চোর সন্দেহে আটক বাবাকে। চারপাশে উৎসুক মানুষের ভিড়। সেই ভিড় ঠেলে বাবার কাছে কেঁদে কেঁদে ছুটে এলো ছোট্ট মেয়ে। সারারাত অনাহারে ও নির্যাতনে নিস্তেজ হয়ে পড়া বাবার জন্য নিজের জমানো টাকায় কিনে আনল রুটি আর গরম চা। এরপর নিজ হাতে পরম মমতায় বাবার মুখে তুলে দিল সেই খাবার। জাঁকজমক ভিড়ের মধ্যে বাবার চরম অসহায়ত্ব আর মেয়ের এই নিঃস্বার্থ মমতার দৃশ্য মুহূর্তেই সেখানে উপস্থিত সবার চোখ ভিজিয়ে দেয়। পরবর্তীতে এই বিরল মুহূর্তটির ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল বাজারে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে বামরাইল বাজারের একটি দোকানে চুরির চেষ্টার অভিযোগে অনিক সরদার নামে এক যুবককে হাতেনাতে আটক করে স্থানীয় নৈশপ্রহরী ও ব্যবসায়ীরা। পরবর্তীতে ক্ষুব্ধ জনতা তাকে ধরে এনে বাজারের একটি খুঁটির সঙ্গে শক বেঁধে রাখে। আজ সকালে মেয়ে এসে বাবাকে রুটি-চা খাওয়ানোর সময় এক তরুণ দৃশ্যটি নিজের মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন। দেখতে দেখতে ভিডিওটি দেশজুড়ে ভাইরাল হয়ে যায় এবং হাজার হাজার মানুষ অবুঝ শিশুটির পিতৃভক্তি ও ভালোবাসার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, মেয়েটি যখন ভিড় ঠেলে এসে নিজের হাতে বাবাকে চা-রুটি খাওয়াচ্ছিল, তখন সেখানে উপস্থিত অনেকের চোখেও পানি এসে গিয়েছিল।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রব বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে চুরির অভিযোগ পুলিশে দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু অপরাধ যাই হোক না কেন, বাবার প্রতি অবুঝ এই কন্যাসন্তানটির মমতা আমাদের সভ্য সমাজকে নতুন করে ভাবতে শেখায়।
পরবর্তীতে শনিবার সকাল ৯টার দিকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীরা অনিক সরদারের কাছ থেকে ভবিষ্যতে অপরাধে না জড়ানোর মুচলেকা রেখে তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেন।
ঘটনার বিষয়ে উজিরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, চুরির অভিযোগে এক যুবককে স্থানীয়রা আটকে রেখেছে খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিক মোবাইল টিম পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। তবে এর আগেই স্থানীয়রা বিষয়টি আপস-মীমাংসা করে মুচলেকা নিয়ে অভিযুক্ত যুবককে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছেন।

আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল