রংপুরে অ্যানথ্রাক্স : ১১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩ জন শনাক্ত
রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় নমুনা পরীক্ষা করে ৩ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে। আজ শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. ফিরোজ খান।
তিনি বলেন, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) ১১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠালে রিপোর্টে ৩ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়।
অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামের সজিব মিয়া (২৩), আবদুল মান্নান (৬০) ও মোছা. স্বপ্না বেগম (৪৫)।
পীরগাছা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আদমপাড়া গ্রামের সজিব মিয়া কয়েক মাস আগে একটি গরু কিনে লালনপালন শুরু করেন। গত ২১ আগস্ট হঠাৎ গরুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে কাউকে না জানিয়ে তিনি এটি জবাই করে এলাকার মানুষের মধ্যে মাংস ভাগাভাগি ও বিক্রি করেন। ওই গরুর মাংস কাটা ও খাওয়ার কারণে ওই এলাকার ১১ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দেয়।
পীরগাছা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শাকিল আহমেদ বলেন, অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস বিক্রির ১০ থেকে ১৫ দিন পর তারা বিষয়টি জানতে পারেন। কয়েকজনের হাতে ফোসকা দেখা যায়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে তারা ওই এলাকায় গিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন। সেখানে আর কোনো গরুকে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত অবস্থায় পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, সংক্রমণ ঠেকাতে ওই এলাকার সব গরুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। বর্তমানে অ্যানথ্রাক্সের কোনো ঝুঁকি নেই, অধিকাংশ রোগীর ঘা শুকিয়ে গেছে। অসুস্থ গরুর মাংস যাতে কেউ বিক্রি করতে না পারে, সে বিষয়ে তারা সতর্ক রয়েছেন।
ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. ফিরোজ খান বলেন, অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গের খবর পেয়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর আইইডিসিআরের একটি দল উপসর্গযুক্ত ১১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে। এর মধ্যে তিনজনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে। বাকিদের পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে। বর্তমানে আক্রান্ত তিনজনই সুস্থ আছেন।

ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি)