কিশোর গ্যাং দমনে সম্মিলিত ভূমিকা জরুরি : পুলিশ সুপার
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এরই মধ্যে কুমিল্লায় পুলিশের বিশেষ সাঁড়াশি অভিযানে ৬২৪ জন আটকের পর কিশোর অপরাধের ভয়াবহ চিত্র নতুন করে সামনে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্যাং দমনে জোরদার পদক্ষেপ নিলেও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক নেতাদের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কুমিল্লা মহানগরে বর্তমানে অন্তত ১০টির বেশি কিশোর গ্যাং সক্রিয় বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানের মুখে সম্প্রতি এসব গ্যাংয়ের প্রকাশ্য শক্তি প্রদর্শন ও মহড়া কিছুটা কমেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একটি অংশ মিছিল-সমাবেশে ভিড় বাড়াতে এবং প্রতিপক্ষ দমনে কিশোরদের ব্যবহার করেন। অপরাধ করার পর গ্রেপ্তার হলে রাজনৈতিক নেতাদের তদবিরের কারণে এদের লাগাম টানা কঠিন হয়ে পড়ছে।
কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাসুক আলতাফ চৌধুরী বলেন, কিশোরদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ও পেশিশক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয় বলেই নেতারা গ্যাং দমনে অনীহা দেখান। আদর্শিক পরিবারে শিশুরা অনুশাসনে বড় হওয়ার কথা থাকলেও উল্টো তাদের রাজনীতির মাঠে ব্যবহার করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদ রানা বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে কোনো নেতার সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা মিললে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তরুণ নেতারা এ বিষয়ে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করে জ্যেষ্ঠ নেতাদের এগিয়ে আসার পরিবেশ তৈরি করতে চান।
সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সাবেক সভাপতি বদরুল হুদা জেনু মনে করেন, পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয়ের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদাসীনতায় কিশোররা এক দিনে অপরাধী হয়ে ওঠেনি। অপরাধ ঘটার পর তৎপর না হয়ে তা রোধে পূর্ব থেকেই রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য কমাতে পরিবার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাজনীতিবিদদের এগিয়ে আসতে হবে। সবার সম্মিলিত উদ্যোগেই এ সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব। দুই হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষের জন্য একজন পুলিশ সদস্য দিয়ে কিশোর গ্যাংসহ কোনো অপরাধ সমূলে নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ জন্য পরিবার, সমাজ, রাজনীতিবিদ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন।

মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা