আপা আপা করিস না রে, আপা ফিরে আসবে না রে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ হত্যা, লুটপাট করে পালিয়ে গেছে। তারা আর ফিরে আসবে না। আপা আপা করিস না রে আপা ফিরে আসবে না রে, আপা আপা করিস না রে, খুনি ফিরে আসবে না রে।’
আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হালুয়াঘাটে এক সমাবেশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে স্লোগানে স্লোগানে এসব কথা বলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতা, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা এবং বিরোধীদলের অপপ্রচার বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপি হালুয়াঘাটে এই মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে।
সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ হত্যা, লুটপাট করে পালিয়ে গেছে। তারা আর ফিরে আসবে না।
এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে স্লোগান ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপা আপা করিস না রে আপা ফিরে আসবে না রে, আপা আপা করিস না রে, খুনি ফিরে আসবে না রে।'
তথ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘একবার আপা আপনাদের বিপদে ফেলে পালিয়ে গেছেন, এবার আবার বিপদে ফেলতে আপনাদের নাশকতার নির্দেশ দিচ্ছেন। এবার জনগণ আপনাদের আর ছাড়বে না।’
তথ্য প্রতিমন্ত্রী জনগণের প্রতি আওয়ামী লীগের নাশকতার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নাশকতাকারীদের আর ছাড় দেওয়া হবে না। কোনো ষড়যন্ত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের গণমুখী কার্যক্রম নস্যাত করতে পারবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র নস্যাত করে দেওয়া হবে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এনায়েত উল্লাহ কালামের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহ্বায়ক, ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদারের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, আওয়ামী লীগের নাশকতা সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে জামায়াত-এনসিপি জোটের কোনো বক্তব্য বা প্রতিবাদ কর্মসূচি নেই কেন?
প্রিন্স আরও বলেন, বিরোধী দলের উচিত জনগণের কাছে এই প্রশ্নের জবাব দেওয়া। জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি হচ্ছে, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে একাত্তর ও চব্বিশের পরাজিত শক্তির রাখিবন্ধনের পুনরাবৃত্তি ঘটছে কি না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু দেশের শান্তি, জননিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের প্রশ্নে কোনো দেশপ্রেমিক কোনো রাজনৈতিক দলের নীরব থাকার সুযোগ নেই। যারা নিজেদের বিরোধী শক্তি হিসেবে দাবি করেন, তাদেরও সন্ত্রাস, নাশকতা ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে।
প্রিন্স আরও বলেন, আওয়ামী লীগের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে যখন বিএনপি রাজপথে প্রতিবাদ করছে, তখন অন্য বিরোধী দলগুলোর নীরবতা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। জনগণ জানতে চায়—নাশকতার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান কী? তারা কি প্রকাশ্যে এর প্রতিবাদ করবে, নাকি রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের কারণে নীরব থাকবে?
প্রিন্স আরও বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—বাংলাদেশের রাজনীতি হবে জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের রাজনীতি। সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে কেউ রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করলে জনগণ তার জবাব দেবে।
বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, জামায়াত-এনসিপির নেতারা আওয়ামী লীগের নাশকতার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান না নিয়ে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে এক দফার হুমকি দেওয়া এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মসূচি ও লাগামহীন বক্তব্যের ফলে পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ লাভবান হচ্ছে এবং গণ-অভ্যুত্থান ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ফসল নস্যাৎ করতে নাশকতার সাহস পাচ্ছে।
প্রিন্স বলেন, সরকারের বিরোধিতা করার অধিকার সবার আছে; কিন্তু বিরোধিতার নামে এমন অপরিণামদর্শী রাজনীতি করা উচিত নয়, যার সুযোগ নিয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী তৎপরতা বিস্তারের অবকাশ তৈরি হয়। যে দলই নাশকতা করবে, তার বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে; যে পক্ষই সহিংসতার সুযোগ তৈরি করবে, তাকেও রাজনৈতিকভাবে জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হানিফ মোহাম্মদ শাকের উল্লাহ, তারাকান্দা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম, ধোবাউড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম কাজল, সদস্য সচিব আনিসুর রহমান মানিক প্রমুখ।
এরপর একটি প্রতিবাদ মিছিল সমাবেশস্থল থেকে বের হয়ে হালুয়াঘাট পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ স্মৃতি সৌধে গিয়ে শেষ হয়।
প্রতিবাদ মিছিলে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, ইয়াসের খান চৌধুরী, অধ্যাপক এনায়েত উল্লাহ কালাম, মোতাহার হোসেন তালুকদারসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।

মানিক চৌধুরী, ময়মনসিংহ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া)