কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ ও যুবলীগের ১৫ নেতা-কর্মী রিমান্ডে
রাজধানীর গুলশানে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার আরও ১৫ আসামিকে তিন দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত এ আদেশ দেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রুহুল আমিন ১৫ আসামিকে হাজির করে সাত দিন রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, রিমান্ডে পাঠানো আসামিরা হলেন- ছাত্রলীগ কর্মী নিরব খান (২২), ঠাকুরগাঁও শহর আওয়ামী লীগ সদস্য মো. সাইফুল ইসলাম (৫২), পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুবলীগ সদস্য মো. জুয়েল শিকদার (৩৩), ভাটারা থানা যুবলীগ সদস্য মো. সাহেদ (৩৯), ঢাকা মহানগর উত্তর ১৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ কর্মী শান্ত শেখ (২৮), ঢাকা মহানগর উত্তর ২০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সদস্য মো. হারুন মাইজভান্ডারি (৫৫), লক্ষ্মীপুর জেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক খালেদ মাহমুদ ফয়সাল (৪০), ঢাকা মহানগর উত্তর ১৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মো. সফিকুর রহমান (৫০), চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য মো. বিল্লাল গাজী (৩৫), তাড়াইল উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. ইসমাইল সিরাজী (৩২), ক্যান্টনমেন্ট থানা ছাত্রলীগের কর্মী মো. আরিফুর রহমান দিপু (২৭), বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি মো. ইদ্রিসুল আলম (৫৫), বাড্ডা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জয়নাল আবেদীন মামুন (৫০), জাতীয় শ্রমিক লীগের ভাটারা থানা ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জয়ন্ত কুমার বাড়ৈ (৪৩) ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিকবিষয়ক উপকমিটির সদস্য মো. মোজাম্মেল হক (৭৫)।
নথি থেকে জানা গেছে হয়, গত ১১ সেপ্টেম্বর বেলা পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর গুলশান থানাধীন এলাকায় নির্বাচিত সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা, সরকারবিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলার লক্ষ্যে কার্যক্রম স্থগিত আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সমবেত হন। তারা সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির লক্ষ্যে সমাবেশের আয়োজন করেন। এ সময় তারা ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। অজ্ঞাতনামা আসামিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্য হয়ে নিষিদ্ধ সত্তাকে সমর্থন এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জনগণের জান-মালের ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেন এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান।
এই ঘটনায় পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে তারা আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পুলিশের উদ্দেশ্যে ককটেল নিক্ষেপ করেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়লে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যান। এ সময় পাঁচটি ককটেল জব্দ করা হয়।
এজাহার থেকে জানা গেছে, গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহবুব হোসাইন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করেন। মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আদালত প্রতিবেদক