ব্যবসায়ী আজিজ হত্যায় নেতৃত্ব দেন ‘সর্বহারা গ্রুপের’ বাঘা : এসআরবি
পাবনায় পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ (৫৫) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এ মামলার প্রধান আসামি মোহাম্মদ রেজাউল করিম প্রামাণিক ওরফে বাঘাকে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি ‘সর্বহারা গ্রুপের’ নেতা এবং আজিজ হত্যায় নেতৃত্ব দেন বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীটি।
এসআরবি বলেছে, হত্যার শিকার আব্দুল আজিজের কাছে সবসময় টাকা-পয়সা থাকত জানতে পেরে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন আসামিরা। মাত্র ২৫ হাজার টাকার লোভে চারজন মিলে নির্মমভাবে হত্যা করে আজিজকে।
আজ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।
এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ডাঙ্গামারি গ্রামের স্থানীয় পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ নিখোঁজ হন। ব্যবসা সূত্রে তার কাছে সবসময় নগদ টাকা-পয়সা থাকতো বলে জানা যায়। নিখোঁজের পরদিন ৮ সেপ্টেম্বর স্থানীয় একটি পুকুরে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়।
উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, দুর্বৃত্তরা অত্যন্ত নির্মমভাবে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে মরদেহ পুকুরে ফেলে রেখে যায়। পরে নিহতের স্বজন বাদী হয়ে পাবনার সাঁথিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করে। থানা পুলিশ মামলাটির তদন্ত শুরু করে এবং চারজন সন্দেহভাজন ব্যক্তির খোঁজ পায়। তাদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের স্বীকারোক্তির কথা জানিয়ে এসআরবি কর্মকর্তা এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, চারজন মিলে আব্দুল আজিজকে খুন করে। হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী এবং প্রধান আসামি মোহাম্মদ রেজাউল করিম প্রামাণিক ওরফে বাঘা ক্রমাগত নিজের স্থান পরিবর্তন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে নরসিংদীতে তার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এসআরবি-১১ ও এসআরবি-১২ যৌথ অভিযান চালিয়ে নরসিংদীর মাধবদী এলাকা থেকে বাঘাকে গ্রেপ্তার করে।
এ জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোহাম্মদ রেজাউল করিম প্রামাণিক ওরফে বাঘা স্বীকার করেছেন, তিনি একটি নিষিদ্ধ সর্বহারা গ্রুপের নেতা। মাত্র ২৫ হাজার টাকার লোভে তারা চারজন মিলে পরিকল্পনা করে ব্যবসায়ী আজিজকে হত্যা করেন। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিতে গ্রেপ্তার বাঘাকে পাবনার সাঁথিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক