জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান, আতঙ্কে ৩০০ শিক্ষার্থী
যে বয়সে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ থাকার কথা বই আর শ্রেণিকক্ষের ব্ল্যাকবোর্ডে, সে বয়সে যশোরের কেশবপুর উপজেলার গড়ভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর চোখ থাকে মাথার ওপরের জরাজীর্ণ ছাদে। কখন খসে পড়ে পলেস্তারা- এই আতঙ্কেই চলছে পাঠদান।
১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়টির পুরোনো ভবনটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ভবনের দেয়াল ও ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত। বর্ষায় ছাদ চুইয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। এর সঙ্গে রয়েছে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার ভয়। পাঠদান চলার সময় একাধিকবার বিকট শব্দে পলেস্তারা খসে পড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়া খাতুন বলে, ক্লাস করার সময় সবসময় ছাদের দিকে নজর থাকে। কখনও পানি পড়ে, আবার কখনও মাথার ওপর সিমেন্টের টুকরো খসে পড়ে। ভয় নিয়ে পড়াশোনা করা কঠিন। আমরা নিরাপদ নতুন শ্রেণিকক্ষ চাই।
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাকিব আল হাসান বলে, এসএসসি পরীক্ষা সামনে। কিন্তু শ্রেণিকক্ষে বসে ঠিকমতো পড়াশোনা করতে ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে বই-খাতা গুটিয়ে এক পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানাই।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অঞ্জন কুণ্ডু বলেন, ভবনটি অত্যন্ত পুরোনো ও বিপজ্জনক। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। দ্রুত নতুন ভবন বরাদ্দ না পেলে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চালানো কঠিন হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ ফিরোজ আহমেদ বলেন, গড়ভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনের নাজুক অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। ভবনটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেখানে ক্লাস না নেওয়ার জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত নতুন ভবনের ব্যবস্থা করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

ইনামুল হাসান, যশোর (মনিরামপুর-কেশবপুর)