জনগণের জন্য কাজ না করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে : বিমানমন্ত্রী
বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেছেন, বিগত সরকার দেশ ২০ বছর পিছিয়ে দিয়ে গেছে। আগামী পাঁচ বছরে এ জন্য দায়িত্বের বাইরে গিয়েও সবাইকে বেশি বেশি কাজ করতে হবে। যারা জনগণের জন্য কাজ করবেন না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও শেরপুর জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে ময়মনসিংহ জেলার আইনশৃঙ্খলা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন, জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকি সংক্রান্ত সমন্বয় সভায় এ কথা বলেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
জেলা প্রশাসক মো সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে তার সভাকক্ষে এই সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী বলেন, কাজ করার জন্য পাঁচ বছর সময় খুবই কম। আগামী পাঁচ বছরে এ জন্য দায়িত্বের বাইরে গিয়েও সবাইকে বেশি বেশি কাজ করতে হবে। দেশকে বসবাস যোগ্য করতে হবে। সরকার সেই অভিপ্রায় নিয়েই কাজ করে যাচ্ছে।
মন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের সুযোগ এসেছে কাজ করার। অতীত ভুলে যান, কাজ করেন। যারা কাজ করবেন মনে রাখবেন দেশের জন্য কাজ করছেন। ভবিষৎ প্রজন্মের জন্য কাজ করছেন। যারা কাজ করতে চাইবেন না, তারা স্বেচ্ছায় চলে যান।
জামায়াতে ইসলামির আন্দোলন নিয়ে মন্ত্রী বলেন, অন্যের দায় গ্যাস ও বিদুৎ সংকট আমরা বহন করছি—এটা আমাদের সৃষ্ট সমস্যা নয়। এ সমস্যা অবশ্যই সমাধান হবে—তবে সময় লাগবে।
বোয়িং ক্রয় বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা দেশের ভালো করতে চাই। আমরা বোয়িং কিনছি ১৪টি। তারপর লিজ নেব। ফ্রান্স, ভারত ও জার্মানি থেকে যারা এয়ারবাস তৈরি করে সেখান থেকেই কেনা হবে। আমরা দেশটাকে উন্নত করতে চাই। দয়া করে আমরা সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করব। জনবিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোরেভাবে আইন প্রয়োগের পরামর্শও দেন তিনি এই সভায়।
সমন্বয় সভায় ঈশ্বরগঞ্জ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য বলেন, ঈশ্বরগঞ্জ মাদকে সয়লাব। মাদক ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রশাসনের সার্বিক সহায়তা ছাড়া মাদক বিস্তার রোধ সম্ভব নয়। মাদকের বিস্তারে মানুষ এখন আমাদের অবিশ্বাস করা শুরু করেছে।
মুক্তাগাছা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য জাকির হোসেন বাবলু বলেন, আদালতে মাদক মামলার আসামি আসার পর তারা সহজেই জামিন পেয়ে যায়। এ জন্য টিমওয়ার্ক দরকার। কেন জামিন পাচ্ছে তা খুঁজে বের করা দরকার। তিনি আরও বলেন, মুক্তাগাছায় মাদক ব্যবসায়ীরা শত শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক। কীভাবে হলো? মুক্তাগাছায় বাল্যবিবাহ বাড়ছে। জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি কার্যকর এবং বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে হবে।
ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ময়মনসিংহের সার্বিক উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বলেন, সবাই মিলে অবহেলিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করতে হবে। পতিত হাসিনার দোসর রওশন এরশাদ সদরের সংসদ সদস্য ছিলেন। হাসিনার সব দুষ্কর্মের এই সহযোগী ইউনিয়ন পর্যায়েও কোনো রাস্তা উন্নয়ন করেনি।
বেগম খালেদা জিয়ার নামে কিছু করার দাবি জানিয়ে আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, প্রশাসন এখন মুক্তভাবে কাজ করতে পারছে। তাদের ওপর খবরদারি করা হচ্ছে না।
সভায় আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, কামরুল হাসান মিলন, সিটি প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান সরকার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান প্রমুখ।
এ ছাড়া সমন্বয় সভায় বিভিন্ন দপ্তরপ্রধানরাও তাদের সমস্যা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্য দেন।

আইয়ুব আলী, ময়মনসিংহ