মাদক ব্যবসার অভিযোগে তিন বসতঘর ভাঙচুর
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে মাদক ব্যবসার অভিযোগ তুলে তিনটি বসতঘর ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে। এতে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে পরিবারগুলো। ভাঙচুর করে ঘরের মালামাল তছনছসহ একটি ঘরে থাকা নগদ ২ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
গতকাল শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের নন্দীগ্রাম নাগেরহাট সংলগ্ন লক্ষ্মী কুরী বাড়িতে গেলে ভাঙচুরের দৃশ্য দেখা যায়। এর আগে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার নাগেরহাট বাজারে মাদকবিরোধী একটি বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেখান থেকে লোকজন বাজারের পাশে থাকা কুরী বাড়িতে গিয়ে মানিক লাল কুরীর দুই ছেলে স্বর্ণ কারিগর সোহাগ চন্দ্র কুরী ও রুবেল চন্দ্র কুরীর বসতঘর ভাঙচুর করে। এ সময় পাশের বাড়ির হারুন নামে আরেক ব্যক্তির ঘরেও ভাঙচুর চালানো হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সোহাগ, রুবেল ও হারুনের ছেলে সুজন মাদক ব্যবসায়ী।
সোহাগের চাচা হরিলাল কুরী বলেন, মানববন্ধন নিয়ে লোকজন এসে তার ভাতিজা রুবেলের ঘর ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে এক কোনে আগুন দেয়। পরে লোকজন সোহাগের বসতঘরেও হামলা করে। মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগ এনে বসতঘরে এ ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
সোহাগের স্ত্রী অঞ্জলি কুরী বলেন, আমি অন্যের বাড়িতে কাজ করি। আমাদের পরিবার একেবারে অসহায়। মিথ্যা অভিযোগ এনে আমাদের বসতঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। সন্তানদের নিয়ে কোথায় মাথা গুঁজব? আমি হামলার বিচার চাই। আমার ঘরে জমি বিক্রির ২ লাখ টাকা ছিল, ওই টাকাও নিয়ে গেছে।
সোহাগ চন্দ্র কুরী বলেন, আমি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নই। মিথ্যা অভিযোগ তুলে আমাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় মসজিদের মোয়াজ্জিন মনির হোসেনের সঙ্গে আমার পূর্ব থেকে বিরোধ রয়েছে। এর জের ধরে সে স্থানীয় লোকজনকে উত্তেজিত করে আমাদের বাড়ি ভাঙচুর করিয়েছে।
বশিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান বলেন, মাদক ব্যবসার অভিযোগ এনে সোহাগ ও রুবেলের বসতঘর ভাঙচুরের ঘটনাটি শুনেছি। তারা চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে।
মাদকবিরোধী মানববন্ধনে প্রধান অতিথি ছিলেন সদর (পশ্চিম) উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান খোকন। হামলা-ভাঙচুরের বিষয়ে তিনি বলেন, রুবেল ও সোহাগকে ব্যক্তিগতভাবে আমি চিনি না। তাদের নাম শুনেছি, তারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। মানববন্ধনে আমি ছিলাম, তবে মিছিল নিয়ে আমি যাইনি। এজন্য তাদের বাড়িতে হামলার বিষয়ে আমার জানা নেই।
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। এ ব্যাপারে আমরা অভিযান চালাচ্ছি। তবে এ নিয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আবুল কালাম আজাদ, লক্ষ্মীপুর