বিএনপি সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে ৪৬৪ অপতথ্য
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় ফেরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম ১৮০ দিনে (১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ আগস্ট) সরকারের কর্মকাণ্ড, প্রধান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে কেন্দ্র করে দেশের তথ্যপরিসরে ব্যাপক অপতথ্যের বিস্তার লক্ষ করা গেছে। তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ‘রিউমর স্ক্যানার’-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই ছয় মাসে সরকার ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে মোট ৪৬৪টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে, যার প্রায় ৯১ শতাংশই ছিল নেতিবাচক বা সরকারের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর বার্তা ছড়ানোর উদ্দেশে তৈরি।
সম্প্রতি রিউমার স্ক্যানারের এক পরিসংখ্যানে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই অপপ্রচারের বড় একটি অংশ পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অপতথ্যের লক্ষ্যবস্তু ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাকে কেন্দ্র করে মোট ১৫৭টি অপতথ্য শনাক্ত করা হয়, যার ৭৮ শতাংশই ছিল নেতিবাচক। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অপতথ্য ছড়াতে মূলত বানোয়াট বক্তব্য, সংবাদমাধ্যমের আদলে তৈরি ভুয়া ফটোকার্ড, পুরোনো ছবি বা ভিডিওর অপব্যবহার, ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি কনটেন্টের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।
সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সহকারীদের ঘিরে অন্তত ২৬২টি অপতথ্য শনাক্ত করা হয়, যার মধ্যে প্রায় ৯৯ শতাংশই ছিল নেতিবাচক। মন্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ ছাড়া স্পিকারের দায়িত্ব পালনকালে হাফিজ উদ্দিন আহমদ, রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, বিদ্যুৎ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস এবং তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানসহ অন্য মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের ঘিরেও একাধিক নেতিবাচক অপতথ্য ছড়ানো হয়। সরকারে থাকা নারী নেত্রীদের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ও বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতাও এই অপপ্রচারের লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন।
জনপ্রতিনিধি ও সংসদ সদস্যদের ঘিরেও এই সময়ে ব্যাপক ভুল তথ্য ও গুজব ছড়াতে দেখা গেছে। বিএনপির সংসদ সদস্যদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন ফজলুর রহমান। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যদের মধ্যে দলটির আমীর ডা. শফিকুর রহমান ও সাবেক সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে কেন্দ্র করে বিপুল সংখ্যক অপতথ্য ছড়ায়। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্যদের মধ্যে হাসনাত আবদুল্লাহ, দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও ডা. মাহমুদা মিতুকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাকে কেন্দ্র করেও একাধিক ভুল তথ্য শনাক্ত করে রিউমর স্ক্যানার।
ছয় মাসের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের পাশাপাশি দেশের স্পর্শকাতর ও সমসাময়িক নানা ইস্যুকে কেন্দ্র করেও অপতথ্য ছড়ানোর বড় ধরনের প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। ইস্যুভিত্তিক বিশ্লেষণের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি অপতথ্য ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে। এর পর এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, বন্যা পরিস্থিতি, রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনা, এইচএসসি ও এসএসসির ফল প্রকাশ এবং ধর্মীয় ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিক অপপ্রচার চালানো হয়। প্রযুক্তিনির্ভর এআই কনটেন্ট ও সমন্বিত বিভ্রান্তিকর ক্যাম্পেইন নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের তথ্যপরিসরে নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক