খাল খনন শেষে ৬৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিলেন ইউএনও
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে সাড়ে ৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের তিনটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত মান ও সময় বজায় রেখে সম্পন্ন করার পর অব্যয়িত প্রায় ৬৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সরকারি প্রকল্পের কাজ শেষে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করে ফেরত দেওয়ার এই ব্যতিক্রমী ও সৎ উদ্যোগ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আশুগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কাটাখালী থেকে ভবানীপুর এবং আড়াইসিধা ইউনিয়নের ভবানীপুর থেকে দগরীসার ও দগরীসার থেকে লাউয়াসার পর্যন্ত খাল পুনঃখননের জন্য সরকার ১ কোটি ৬৪ লাখ ৯১ হাজার ৯২৩ টাকা বরাদ্দ দেয়। প্রকল্পের আওতায় খননকাজের পাশাপাশি খালের দুই তীরে প্রায় দেড় হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। এর ফলে ওই অঞ্চলে পানি নিষ্কাশন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি ও পরিবহণসহ মোট খরচ হয় প্রায় ১ কোটি ১ লাখ টাকা। বরাদ্দ থেকে সাশ্রয় হওয়া অবশিষ্ট প্রায় ৬৪ লাখ টাকা মঙ্গলবার সরকারি আর্থিক বিধিমালা অনুসরণ করে কোষাগারে জমা দেওয়া হয়। প্রকল্পটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাফে মোহাম্মদ ছড়া এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আলমাস উদ্দিন। তাদের দাবি, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও কঠোর নজরদারির কারণেই কাজের মান বজায় রেখে অর্থ সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে।
আড়াইসিধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সায়েম মিঠু বলেন, সরকারি প্রকল্পের কাজ শেষে অব্যয়িত অর্থ কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনা খুব একটা দেখা যায় না। ইউএনও সততা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে দেখিয়ে দিয়েছেন, সঠিক তদারকি থাকলে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করা সম্ভব।
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামাল হোসেন বলেন, সরকারি অর্থ জনগণের সম্পদ। কাজের মান বজায় রেখে অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়ার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় এবং অন্য উপজেলাগুলোর জন্যও অনুসরণীয় হতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাফে মোহাম্মদ ছড়া বলেন, সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে প্রয়োজনীয় ব্যয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখা হয়েছে। কাজ শেষে যে অর্থ অবশিষ্ট ছিল, সরকারি বিধি অনুযায়ী তা কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

শিহাব উদ্দিন বিপু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া