নদীতে ভেঙে পড়েছে সাঁকো, নৌকাই ভরসা দুই পাড়ের মানুষের
সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌরশহরের কাঁচাবাজার সংলগ্ন বেত্রবতী নদীর ওপর ভেঙে যাওয়া কাঠের সাঁকোটি সাত দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো চলাচলের উপযোগী করা হয়নি। গত সপ্তাহে পানির তীব্র স্রোতে সাঁকোটি ভেসে যাওয়ার পর থেকে নদীর দুই পাড়ের বিপুল সংখ্যক মানুষ খেয়া নৌকার ওপর নির্ভর করে পারাপার হচ্ছেন। এতে প্রতিদিনই চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী, রোগী ও সাধারণ পথচারীরা।
আজ রোববার (১৯ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভেঙে পড়া সাঁকোর অবশিষ্টাংশ এখনো নদীর দুই পাড়ে পড়ে আছে। কয়েক দিন আগের মতো আর নদীতে তীব্র স্রোত নেই; পানি ও স্রোত অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। তবুও সাঁকোটি অস্থায়ীভাবে সচল করার কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। বাধ্য হয়ে মানুষ খেয়া নৌকায় পারাপার করছেন। বিশেষ করে সকাল ও বিকেলে পারাপারের সময় নৌকায় অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হচ্ছে। এছাড়া দুই পাড়ে কোনো সড়ক বাতি না থাকায় সন্ধ্যার পর অন্ধকারে চরম ঝুঁকির মধ্যে নৌকায় নদী পার হতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুরুতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রবল স্রোতের কারণে কাজ করা সম্ভব নয় বলে জানানো হলেও বর্তমানে নদীতে তেমন কোনো স্রোত নেই। এরপরও সাঁকোটি মেরামত বা বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা না করায় জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।
স্থানীয় সবজি বিক্রেতা আব্দুল্লাহ ও তারিকুল বলেন, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় বাজারে ক্রেতাদের যাতায়াত কমে গেছে, যার ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যেও বিরূপ প্রভাব পড়েছে এবং ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
কলারোয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শওকত হোসেন বলেন, প্রতি বর্ষায় এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সংস্কারে সরকারি অর্থ ব্যয় হয়, কিন্তু স্থায়ী সমাধান মিলছে না। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে অন্তত অস্থায়ীভাবে সাঁকোটি সচল করা এবং দ্রুত স্থায়ী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রতি বর্ষার এই চিরচেনা দুর্ভোগ থেকে স্থায়ী মুক্তি দিতে বেত্রবতী নদীর ওপর একটি টেকসই কংক্রিটের সেতু নির্মাণে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক আরিফুল ইসলাম বলেন, সাঁকোটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। গত এক সপ্তাহে নদীতে ব্যাপক পানির তীব্র গতি থাকায় মেরামত করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে পানির তীব্র গতি কমে গেছে, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।

আনিছুর রহমান, সাতক্ষীরা (সদর-কলারোয়া-তালা-ভোমরা স্থলবন্দর)