কচুরিপানার নিচে ৮ ঘণ্টা লুকিয়ে দুই গরুচোর
নাটোরের সিংড়ায় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে বিলের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে কচুরিপানায় আত্মগোপনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে দুই গরু চোরের। দীর্ঘ প্রায় ৮ ঘণ্টা কচুরিপানায় লুকিয়ে থাকার পরও গ্রামবাসী সম্মিলিতভাবে জলাশয়ে নেমে হাবিবুর রহমান ও ফেরদৌস নামে ওই দুই আন্তঃজেলা গরু চোরকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
আটক হাবিবুর রহমান (৪২) ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার বেতাকুর গ্রামের বাসিন্দা ও ফেরদৌসের (২৬) বাড়ি জয়পুরহাট জেলার গোপালপুর মইপুর গ্রামে।
পুলিশ জানায়, গত ১০ জুলাই নওগাঁ জেলার রানীনগর থানায় একটি গরু চুরির মামলা দায়ের হয়। মামলার সূত্র ধরে রানীনগর থানা পুলিশ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আত্রাই উপজেলার কাশিয়াবাড়ি গ্রামের আসলাম দেওয়ানকে আটক করে। পরে আসলামকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করে বুধবার (১৫ জুলাই) ভোর ৫টার দিকে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম এলাকায় অবস্থান নেয় পুলিশ। আসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চোর চক্রটি একটি মিনি ট্রাকে করে সেখানে পৌঁছালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চৌগ্রাম-কালীগঞ্জ ফিডার রোড হয়ে পালানোর চেষ্টা করে।
এ সময় পুলিশ তাদের ধাওয়া করলে সকাল ৬টার দিকে চোর চক্রের সদস্য হাবিবুর ও ফেরদৌস মিনি ট্রাক থেকে লাফ দিয়ে পাশের একটি জলাশয়ের কচুরিপানায় আত্মগোপন করে। তাদের লাফিয়ে পড়ার সুযোগে চক্রের বাকি সদস্যরা ট্রাক নিয়ে পালিয়ে যায়। এদিকে বিষয়টি জানতে পেরে গ্রামবাসী চারদিক থেকে জলাশয়টি ঘিরে ফেলে। পরে দুপুর ২টার দিকে স্থানীয়রা কচুরিপানায় নেমে তল্লাশি চালিয়ে তাদের ধরে ডাঙ্গায় তুলে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, পুলিশ ট্রাকটি ধাওয়া করার সময় হাবিব ও ফেরদৌস লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে পিছু নেওয়া পুলিশ তাদের ধরে ফেলে। এ সময় তারা পুলিশের ওপর চড়াও ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে জলাশয়ে ঝাঁপ দেয়।
এ ঘটনায় রানীনগর থানার ওসি মোহাম্মদ জাকারিয়া বাদী হয়ে সিংড়া থানায় পুলিশকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। আটক দুই চোরকে আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হালিম খান, নাটোর