পানি নামতেই ভেসে উঠছে বন্যার ভয়াবহতা
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বন্যা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি হতে শুরু করেছে। উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত সাঙ্গু, ডলু ও হাঙ্গর খালের পানি হ্রাস পাওয়ায় পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে বন্যার পানি সরে যাওয়ার সাথে সাথে এলাকাগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাতকানিয়া পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও চরতী, কাঞ্চনা, ছদাহা, ঢেমশা, কেঁওচিয়া, পুরানগড়, বাজালিয়া, সোনাকানিয়া ও কালিয়াইশসহ উপজেলার প্রায় সবকটি ইউনিয়নে বন্যার পানি কমেছে। পানি নেমে যাওয়ার পর স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় পাঠদান কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে অনেক গ্রামীণ সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে।
এদিকে উপদ্রুত এলাকার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে ইতোমধ্যে সাতকানিয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যরিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল। বন্যার্তদের মাঝে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে ত্রাণ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত সাতকানিয়ায় ১৭৫ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ত্রাণ সহায়তা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, বন্যার পানি কমতে থাকায় এখন ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামোর প্রকৃত চিত্র সামনে আসছে। ক্ষতিগ্রস্ত দুস্থ মানুষের পাশে উপজেলা প্রশাসন সর্বাত্মকভাবে রয়েছে। সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করে পরবর্তী পুনর্বাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শহীদুল ইসলাম বাবর, দক্ষিণ চট্টগ্রাম