মাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে ভাড়াটিয়া রুবেল হত্যার দায়ে ৪ ভাই গ্রেপ্তার
ময়মনসিংহে বাড়ির মালিককে শ্লীলতাহানির অভিযোগে ভাড়াটিয়া রুবেলের ঘরে ঢুকে হত্যার দায়ে বাড়িওয়ালির চার ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে ময়মমনসিংহের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
আজ সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল ৩টায় সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।
গ্রেপ্তার হওয়া চার ছেলে হলেন রহমত (৩০), জনি (২৮), রকি (২৬) ও ইমরাজ (১৮)।
পিবিআই পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, নিহত ভাড়াটিয়া মো. রুবেল এলাকায় মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত। নগরীর রামকৃষ্ণ মিশন রোডের পারুল নামে এক নারীর বাসায় ভাড়া থাকতেন তিনি। সেখানে নিয়মিত মাদক সেবন ও মাদক কেনাবেচা করতেন তিনি। এসব জেনে তাকে বাসা ছাড়তে বলেন বাড়িওয়ালি পারুল। পরে গতকাল রোবার সকালে পারুলের বাসায় গিয়ে ঘর ছাড়বেন না বলে জানান রুবেল। এ নিয়ে তর্কের জেরে তিনি পারুলকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করেন। পারুলের ছেলে জনি এসে এসব দেখে ফেলেন। এরপর বিষয়টি তিনি অন্য তিন ভাইকে জানান। এরপর চার ভাই মিলে ভাড়াটিয়া রুবেলের ঘরে গিয়ে তাকে প্রথমে বাঁশ দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। পরে তার গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যান।
নিহত ভাড়াটিয়া রুবেলের মারধরে আহত বাড়িওয়ালি পারুল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি বলেও জানান এই পিবিআই কর্মকর্তা।
গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় রুবেল নগরীর রামকৃষ্ণ মিশন ছত্রিশবাড়ী এলাকায় একটি ভাড়াবাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ওই সময় বাড়িওয়ালির চার ছেলে তার ঘরে ঢুকে প্রথমে বাঁশ দিয়ে পেটান এবং একপর্যায়ে জবাই করে ঘরে ফেলে রেখে পালিয়ে যান। পরে রুবেলকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ, র্যাব, পিবিআই কাজ শুরু করে।

আইয়ুব আলী, ময়মনসিংহ