কক্সবাজারে পাহাড় ধসে ভাই-বোন নিহত, পানিবন্দী লক্ষাধিক মানুষ
টানা কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী নদীর তীরবর্তী উপজেলাগুলোতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। পেকুয়া উপজেলার মেহেরনামা এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে মাতামুহুরী নদীর ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে বেশ কয়েকটি গ্রাম। পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানিতে এই অঞ্চলের অন্তত ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে এক লাখের অধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।
এদিকে, ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের মছনিয়াকাটা (ডেবলতলী) এলাকায় একটি পাহাড়ের বিশাল অংশ পাদদেশে থাকা বসতঘরের ওপর ধসে পড়ে। এতে মাটিচাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই দুই ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে।
নিহতরা হলেন-ওই এলাকার আবদুল মজিদের ছেলে তৌসিফ মিয়া (১৩) ও তার আপন চাচাতো বোন মৃত মোহাম্মদ কাজলের মেয়ে রুমি আক্তার (১৭)। এ ঘটনায় রুমির মা লায়লা বেগম (৫০) গুরুতর আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস এবং পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার পাহাড় ধসে দুই জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য রওনা হয়েছেন।
পাহাড়ি ঢলের তীব্রতায় চকরিয়া উপজেলার কাকারা, কৈয়ারবিল, লক্ষ্যারচর, ফাসিয়াখালী, পূর্ববড় ভেওলা, বিএমচর এবং পেকুয়া উপজেলার সদর, মেহেরনামা ও শীলখালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জনপদ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। গতকাল বুধবার রাতে মেহেরনামা এলাকায় মাতামুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় লোকালয়ে হু হু করে পানি ঢুকছে। বর্তমানে মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
অপরদিকে, রামু উপজেলার গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া ও রাজারকুল ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামেও নতুন করে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বাঁকখালী নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। পাহাড়ি ঢল ও জলাবদ্ধতার কারণে গোটা জেলায় লাখ লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। গ্রামীণ সড়ক, কৃষিজমি এবং মাছের ঘের তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ও অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আজও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় পাহাড় ধসের শঙ্কা আরও বেড়েছে। দুর্যোগপ্রবণ ও পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত চারদিনে পাহাড় ধসের ঘটনায় রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ১৬ জনসহ কক্সবাজার জেলায় মোট ২০ জন এবং ঢলের পানিতে ভেসে গিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

ইকরাম চৌধুরী টিপু, কক্সবাজার