বৈরী আবহাওয়ায় সাগরে মাছ ধরা বন্ধ, নোঙর করেছে বহু ট্রলার
গভীর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে জেলেদের মাছ শিকার। ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি হওয়ায় বরগুনার পাথরঘাটার উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকার বহু মাছ ধরার ট্রলার গভীর সাগর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে এসেছে।
এতে জেলে ও ট্রলার মালিকরা যেমন বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন, তেমনি গভীর সমুদ্রে নির্ভরযোগ্য মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় সময়মতো আবহাওয়ার সতর্কবার্তা না পাওয়ার সংকটটি আবারও সামনে এসেছে।
পাথরঘাটার বিএফডিসি (নতুন বাজার) খাল, পদ্মার খাল, বাদুরতলা, জিনতলা ও কাকচিড়া খালসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শত শত মাছ ধরার ট্রলার সারিবদ্ধভাবে নোঙর করে রাখা হয়েছে।
জেলেরা বলেন, ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে আশানুরূপ ইলিশ ও অন্যান্য মাছ না পাওয়ায় অধিকাংশ ট্রলার এমনিতেই লোকসানে পড়েছিল। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নতুন করে ধারদেনা ও ঋণ করে সাগরে গেলেও নিম্নচাপের কারণে মাত্র দুই-তিন দিনের মাথায় তাদের ফিরে আসতে হয়েছে। একটি ট্রলার গভীর সাগরে পাঠাতে দুই থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই টাকা ওঠেনি।
ছগির নামে এক ট্রলার মালিক বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে দুই দফায় ট্রলার সাগরে পাঠিয়ে দুইবারই লোকসান গুনেছি। পরে আবার ঋণ করে সাগরে পাঠালাম, কিন্তু উত্তাল ঢেউয়ের কারণে দুই দিনের মাথায় ট্রলার ফিরে এসেছে। এখন ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত চলায় নতুন করে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এদিকে গভীর সমুদ্রে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকার কারণে জেলেরা সময়মতো আবহাওয়ার সতর্কবার্তা পান না বলে অভিযোগ করেছেন জেলে কবির। তিনি বলেন, অনেক সময় খাদ্য, বরফ ও জ্বালানি নিয়ে সাগরে যাওয়ার পর আবহাওয়া খারাপ হলে দ্রুত ফিরে আসতে হয়, যার ফলে পুরো টাকাই লোকসান হয়। এছাড়া জরুরি পরিস্থিতিতে পরিবার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যায় না। তাই তারা গভীর সমুদ্রে নির্ভরযোগ্য নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান।
বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে প্রত্যাশিত মাছ না পাওয়ায় ট্রলার মালিকরা এমনিতেই সংকটে ছিলেন। এর মধ্যে এই বৈরী আবহাওয়া পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। সমুদ্রে নির্ভরযোগ্য যোগাযোগব্যবস্থা থাকলে জেলেরা সময়মতো সতর্কবার্তা পেয়ে জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারতেন।
পাথরঘাটা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে হাজারো জেলে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করছেন। জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার স্বার্থেই তাদের উপকূলে থাকতে বলা হয়েছে এবং আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে তারা আবার সাগরে যেতে পারবেন।
গভীর সমুদ্রে নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থার দাবির বিষয়ে সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, বেসরকারি সংস্থা ‘সুশীলন’ বর্তমানে স্টারলিংক প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে জেলেদের সাথে কাজ করছে। আশা করা যাচ্ছে, অতিদ্রুত এই যোগাযোগ সংকটের একটি টেকসই সমাধান হবে।

মাহমুদুর রহমান, বরগুনা (পাথরঘাটা-তালতলী)