এনসিপির সমাবেশে বিস্ফোরণ : থানায় মামলা, ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি
সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশস্থলে বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত কাউকে এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার মধ্যরাতে জাতীয় নাগরিক পার্টি ঢাকা জেলা উত্তরের সদস্য সচিব সালামত উল্লাহ রনি বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং আহতদের খোঁজখবর নিয়ে জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস্ ও ট্রাফিক উত্তর) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ। পাশাপাশি অনুষ্ঠান চলাকালে আকস্মিকভাবে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।
এর আগে, গতকাল সোমবার (৬ জুলাই) রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভার থানা স্ট্যান্ড ঈদগাহ মাঠে এনসিসির সমাবেশ চলাকালে এই বোমা হামলার ঘটনা ঘটে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, রাত সাড়ে ৯টার দিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সমাবেশের মঞ্চে যান। তারা মঞ্চে ওঠার ঠিক ৫-১০ মিনিট আগে সমাবেশস্থলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়। জেনারেটরের মাধ্যমে কয়েকটি বাতি জ্বালানো হলেও তা ছিল অপর্যাপ্ত। আয়োজকরা বিদ্যুৎ অফিসের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
এই অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিস্থিতির মধ্যেই ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদের বক্তব্য চলাকালে রাত আনুমানিক ৯টা ৪২ মিনিটে মঞ্চ থেকে ১০-১৫ ফুট সামনে হঠাৎ এক বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তে চারিদিক সাদা ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়। সমাবেশে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্য, সাংবাদিক এবং সাধারণ শ্রোতারা উপস্থিত ছিলেন। বিস্ফোরণের পরপরই সবাই দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করলে এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এই হামলায় শাহিন খন্দকার (৩০), মো. জসিম (২৬), মো. শাহাদৎ হোসেন (৪০), ডিবিসি নিউজের ক্যামেরাম্যান মো. মজনু (৪৫) এবং এনপিবি নিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মো. সাইফুল ইসলামসহ (২৫) আরও অনেকেই গুরুতর রক্তাক্ত ও আহত হন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, অজ্ঞাতনামা আসামিরা এনসিপির নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শ্রোতাদের হত্যার উদ্দেশ্যেই এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।
ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিস্ফোরণ ঘটানো, বিস্ফোরক তৈরির প্রস্তুতি, সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে বিস্ফোরক রাখা এবং জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতি সাধনের বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক সাখাওয়াত ইমতিয়াজকে। জড়িতদের শনাক্ত করতে ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল ও এর আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

জাহিদুর রহমান