কুয়াকাটা-ঢাকা মহাসড়কে ৩০ কিলোমিটার মানববন্ধন
জাতীয় বাজেটে দক্ষিণাঞ্চলের অবহেলিত মেঘা প্রকল্পগুলো সচল ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবিতে কুয়াকাটায় ৩০ কিলোমিটার সড়ক জুড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আজ বুধবার (১ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টাব্যাপী কুয়াকাটা-ঢাকা মহাসড়কের কুয়াকাটা থেকে পায়রা বন্দরের ৬ লেন সড়ক পর্যন্ত নাগরিক সমাজের উদ্যোগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে কুয়াকাটা-ভাঙ্গা ৬ লেন সড়ক নির্মাণ, পর্যটনশিল্পের বিকাশে কুয়াকাটা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন এবং পায়রা বন্দরকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালুকরণসহ ৯টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়। কর্মসূচিতে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি, কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন (টোয়াক), হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন, কুয়াকাটা, মহিপুর ও কলাপাড়া প্রেসক্লাব এবং কলাপাড়া ও কুয়াকাটা নাগরিক সমাজসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আলাদা আলাদা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অংশ নেয়। স্বতঃস্ফূর্ত এই কর্মসূচিতে কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ একাত্মতা প্রকাশ করে শামিল হন।
দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের পক্ষে উত্থাপিত ৯টি প্রধান দাবি হলো- ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়ক দ্রুত ৬ লেনে উন্নীতকরণ। ভাঙ্গা রেল স্টেশন থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত সরাসরি রেল সংযোগ স্থাপন। পর্যটনশিল্পের সুপরিকল্পিত বিকাশে ‘কুয়াকাটা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ গঠন। পায়রা বন্দরকে পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকরভাবে চালু করা। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীতকরণ। কুয়াকাটায় দ্রুত একটি নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ। প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে কুয়াকাটাকে উপজেলায় রূপান্তর। উপকূলীয় এলাকায় নদীভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ। বরিশাল-ভোলা সেতু নির্মাণ এবং ভোলার গ্যাস ব্যবহার করে ভোলা-বরিশাল-পটুয়াখালী অঞ্চলে সমন্বিত শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা এবং দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জেলা পটুয়াখালীর সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হলো ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়ক। পদ্মা সেতু চালুর পর এই রুটে যানবাহনের সংখ্যা বহুগুণ বাড়লেও সড়কটি সরু থাকায় প্রতিদিন তীব্র যানজট ও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটছে, যা বর্তমানে চরম জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মহাসড়কটি দ্রুত ৬ লেনে উন্নীত করা এখন সময়ের দাবি।
বক্তারা আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কুয়াকাটা পর্যটনকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলে পায়রা বন্দর, সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন ও লাইট হাউজসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও সামগ্রিকভাবে কুয়াকাটা এখন অবহেলিত। ৩ তারকা মানের হোটেলসহ তিন শতাধিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টে হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হলেও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিতে রয়েছেন। এই বিনিয়োগের নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা বাড়াতে কুয়াকাটাকে উপজেলায় রূপান্তর করা জরুরি।
উত্থাপিত ৯ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ এবং প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আন্দোলনকারী ও স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।

কাজল বরণ দাস, পটুয়াখালী