১৩১ বছরের প্রাচীন বিদ্যালয়ের ভূমি দখলচেষ্টা, পিলার ভাঙচুরের অভিযোগ
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার ১৩১ বছরের প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’র ভূমি দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। স্কুল ম্যানেজিং কমিটি থেকে বাদ পড়া দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে জায়গার মালিকানা দাবি করে মামলা দায়ের, স্কুলের সংস্কার কাজে বাধা এবং সীমানা প্রাচীরের পিলার ভাঙচুরের এই অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৮৯৫ সালে এই প্রাচীন প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সাবেক দুই সদস্য আবুল কালাম আজাদ ও নুরুল ইসলাম দাতা সদস্য হতে না পেরে ক্ষোভে জায়গার দাবি তুলে মামলা দায়ের করেন। গত ১৮ মে স্কুলের পেছনের দেওয়াল রক্ষার্থে কয়েকটি পিলার নির্মাণ করা হলে ওই দিন দুপুরে তারা প্রধান শিক্ষককে নির্মাণ কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেন এবং সেখানে তাদের পারিবারিক কবরস্থান রয়েছে বলে দাবি করেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই দিন রাতেই নবনির্মিত পিলারগুলো ভেঙে ইটগুলো দূরে ফেলে দেওয়া হয়।
অভিযুক্ত আবুল কালাম আজাদ ও নুরুল ইসলাম তাদের বিরুদ্ধে আনা ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এখানে আমাদের পারিবারিক জায়গা রয়েছে, যেখানে আগে কবরস্থান ছিল। আমরা আমাদের অধিকার রক্ষায় আদালতে মামলা করেছি।
তবে কবরস্থানের দাবি নাকচ করে দিয়ে স্কুলের সাবেক অভিভাবক সদস্য সাহরাব হোসেন মাস্টার বলেন, ২০০৪-০৫ সালে আমি এই স্কুলের দায়িত্বে ছিলাম। তখন স্কুলের চারপাশ ডোবা-গর্ত ছিল। ১৫ লাখ টাকা খরচ করে সাবেক সভাপতি আবদুল হালিম মজুমদার সেগুলো ভরাট করে দেওয়াল দেন। তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম ও নুরুল ইসলামকে দাতা সদস্য হওয়ার জন্য জমির দলিল দেখাতে বলেছিলেন, যা তারা দেখাতে পারেননি। এখানে কোনো কবরস্থান ছিল না। কমিটিতে থাকতে না পেরেই তারা এমন করছেন এবং রাতের আঁধারে যারা পিলার ভেঙেছে, তদন্ত করলে তাদের নামই আসবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসমত আরা জানান, আমি দুই দফায় এই স্কুলে ২১ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছি। এর আগে কখনও তাদের জায়গার মালিকানার কথা শুনিনি। তারা যখন পূর্বে কমিটিতে ছিলেন, তখনও কোনো আপত্তি জানাননি। গত ১৮ তারিখ তারা নির্মাণ কাজে বাধা দিয়ে কোন নীতিমালায় কাজ হচ্ছে জানতে চান। আমি বলেছি, এটি ব্যক্তি উদ্যোগে হচ্ছে, এখানে আলাদা নীতিমালা নয়, নীতি লাগে।
স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ছাত্র আবদুল হালিম মজুমদার (৬০) বলেন, আমার ৬০ বছর বয়সে আমি এখানে কোনোদিন কবরস্থান দেখিনি। আমি নিজের অর্থ খরচ করে চারপাশের ডোবা ভরাট ও দেওয়াল সংস্কার করেছি। তারা দুই মাস আগে একটি মামলা করেছে। দিনের বেলায় এসে কাজে বাধা দিয়েছে এবং রাতে পিলার ভেঙেছে। আইনি প্রক্রিয়া চলমান রেখে স্কুলের এমন ক্ষতি করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
সদর দক্ষিণ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামীম ইকবাল ইমন বলেন, স্কুলের জমি নিয়ে মামলার বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। এই প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ রক্ষায় আমরা আইনগতভাবেই পুরো বিষয়টি মোকাবিলা করব।

মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা