ইউএনও কার্যালয়ের ভেতরে টেন্ডার শিডিউল ছিনতাই
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের ভেতরেই কোরবানির পশুর হাট-বাজার ইজারার টেন্ডার শিডিউল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট হাট-বাজারের টেন্ডার কার্যক্রম আপাতত স্থগিত করেছে প্রশাসন।
গত রোববার (১৭ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইউএনও কার্যালয়ের অভ্যন্তরে এ ঘটনা ঘটে বলে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মো. ফারুক খান। তিনি উপজেলার আড়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত দিনে আলফাডাঙ্গা উপজেলার হাট-বাজার ইজারার টেন্ডার শিডিউল জমা দিতে ইউএনও কার্যালয়ে যান ফারুক খান। এসময় কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি সরকারি দপ্তরের ভেতরেই তার ওপর চড়াও হয় এবং তার হাত থেকে জোরপূর্বক শিডিউলটি ছিনিয়ে নেয়। তিনি বাধা দিতে গেলে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় এবং অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ফারুক খানের দাবি, এই ছিনতাইয়ের কারণে তিনি যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তেমনি সরকারি টেন্ডার প্রক্রিয়াও মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার পর পরই তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, শিডিউল ছিনতাইয়ের ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে ভুক্তভোগী ফারুক খানকে নতুন করে আরেকটি টেন্ডার শিডিউল সরবরাহ করা হয়েছিল। কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিত এই পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেটি পূরণ করে জমা দিতে তার কিছুটা দেরি হয়ে যায়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসককে (ডিসি) অবহিত করা হলে, জেলা প্রশাসক আপাতত ওই নির্দিষ্ট হাট-বাজারের টেন্ডার কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমী জানান, বিষয়টি তদন্তের জন্য পুলিশকে বলা হয়েছে এবং কার্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগীকে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান জানান, ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই ইউএনও কার্যালয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর