‘ডাক্তার শরীর দেখেছে, আবার ওষুধও দিয়েছে, টাকা লাগেনি’
কুমিল্লা নগরী থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে দিনভর চলল এক অনন্য মানবতার উৎসব। তীব্র রোদ আর গরম উপেক্ষা করে শুক্রবার (১৫ মে) সেখানে হাজির হয়েছিলেন হাজারো প্রান্তিক মানুষ। লক্ষ্য- বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা, ওষুধ এবং উপহার সামগ্রী গ্রহণ। এসএসসি ২০০২ ও এইচএসসি ২০০৪ ব্যাচের বন্ধুদের মানবিক সংগঠন ‘বন্ধুরা’র উদ্যোগে এই বিশাল স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প ও উপহার সামগ্রী প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দা অজিফা বেগম। অসুস্থ শরীরে অনেক পথ পাড়ি দিয়ে এসেছিলেন ডাক্তার দেখাতে। বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ওষুধ পেয়ে আবেপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, ‘ডাক্তর শরীর দেখছে, আবার ওষুধও দিছে। টাকা লাগে নাই- আল্লাহ তাদের বাঁচিয়ে রাখুক।’ অজিফা বেগমের মতো অন্তত ৫ হাজার নারী-পুরুষ এদিন এই সেবা গ্রহণ করেন।
আয়োজকরা জানান, দিনব্যাপী এই কার্যক্রমে স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি ছিল রোগ নির্ণয়, নাক-কান ছেদন, সুন্নতে খৎনা এবং চোখের ছানি অপারেশন। চিকিৎসার পাশাপাশি উপস্থিত সবার মাঝে প্রদান করা হয় নতুন পোশাক এবং বিভিন্ন ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রয়াত বন্ধুদের স্মরণে তাদের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়।
আয়োজক কমিটির সদস্য মিথিল মজুমদার জানান, সারাদেশ থেকে আসা বন্ধুদের মধ্যে প্রায় ৭০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সরাসরি রোগীদের সেবা দিয়েছেন। স্থানীয়রা এই উদ্যোগকে ‘আশীর্বাদ’ হিসেবে দেখছেন, কারণ প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় একযোগে এত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা পাওয়া সাধারণ মানুষের জন্য প্রায় অসম্ভব।
আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ডা. কমরুল ইসলাম মামুন বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া। প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবার আমরা কুমিল্লার এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে আয়োজনটি করেছি এবং মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে।
দুই পর্বের এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ড. সায়মা ফেরদৌস। তিনি বলেন, বন্ধুরা মিলে ৫ হাজার মানুষকে সেবা দেওয়া এবং পরিবেশ রক্ষায় গাছের চারা বিতরণ করা নিঃসন্দেহে একটি মহৎ কাজ।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ইউসুফ মোল্লা টিপু আয়োজনের সুশৃঙ্খল পরিবেশের প্রশংসা করে বলেন, মানুষের সেবা করার চেয়ে বড় কোনো কাজ হতে পারে না।
বিগত কয়েক বছর ধরে মানবিক এই কার্যক্রম চালিয়ে আসছে ২০০২-২০০৪ ব্যাচের বন্ধুরা। ভবিষ্যতে এই সেবার পরিধি আরও বাড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তারা।

মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা