ফোনে স্ত্রীকে যা বললেন রুশ সেনাদের কাছে বিক্রি হওয়া রনি ফকির
আমরা এখন ইউক্রেনের ভেতরে আছি। রাশিয়া ইউক্রেনের যে সাইড অঞ্চলগুলো দখল করছে, তার ভেতরে ক্যাম্প বানায় আমাদের নিয়ে আইছে। আর আমাদের যে কোম্পানির নাম বলে আনছিল—পুরো টেকনোলজি কোম্পানি, আসলে ওই নামে কোনো কোম্পানিই নাই! তাদের সাইডের কোনো কাজও নাই। এরাও ফাস্টেই আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করে আর কি। সবকিছু সেনাবাহিনীর আন্ডারে করাইয়া এরপরে আমাদের সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে নিয়ে আইছে, সেই ক্যাম্পেই রাখছে।
রাশিয়ায় ভালো বেতনে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে রুশ সেনাদের যুদ্ধশিবিরে বিক্রি করে দেওয়া মাদারীপুরের যুবক রনি ফকিরের এমনই একটি ফোনালাপ সম্প্রতি ফাঁস হয়েছে। সুদূর ইউক্রেন সীমান্তের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফোনে নিজের স্ত্রীর কাছে কান্নাভেজা কণ্ঠে যে বিবরণ তিনি দিয়েছেন, তা শুনলে যে কারও গা শিউরে উঠবে।
স্ত্রীর কাছে রনি ফকির বলেন, আমাদের এখানে এনে কইছে কনস্ট্রাকশনের কাজ দেবে। অথচ এখানে সবাই হাত-পা ধরে কানছে যে আমরা ফিরে যাব, আমরা এই কাজ করব না। সবাই অনুনয়-বিনয় করছে, হ্যাঁ, কিন্তু তারা কোনো কথা শোনে নাই। তারা আমাদের সেই ক্যাম্পের মধ্যে আটকাইয়া রাখে। এরপরে আমাদের ট্যাংকে করে নিয়ে আইছে। এই দুর্গম জায়গায় আসতে আমাদের প্রায় দুই দিন লাগছে। একটা বিছনা ট্যাংক, তার ভেতরে করে এনে আমাদের এখানে রাখছে। আমাদের দেশের আরও অনেকেই এখানে একসাথে আছি।
রণক্ষেত্রের নির্মম বাস্তবতার কথা তুলে ধরে রনি আরও বলেন, আমাদের আজকে আর্মির পোশাক দিছে। আর সঙ্গে গান (অস্ত্র) দিছে, ‘৭৪ গান’ (একে-৭৪ রাইফেল)। এগুলো চালানো শেখাবে। কালকে নাকি আমাদের এই গান চালানোর ট্রেনিংয়ের টাইম দিছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভালো আয়ের আশায় একটি দালাল চক্রের মাধ্যমে আইটি কোম্পানির কর্মী হিসেবে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন রনি ফকির। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে একটি সামরিক ব্যারাকে বন্দি করা হয়। এরপর জোরপূর্বক চুক্তিতে সই করিয়ে ট্যাংকে করে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ইউক্রেনের সম্মুখ সমরে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক