রেজাউল হত্যা : তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, ছয়জনের যাবজ্জীবন
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ থানার আতর আলী বাজারে গ্রাম্য চিকিৎসক রেজাউল করিম ওরফে আবু ডাক্তারকে হত্যার অভিযোগে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক এক চেয়ারম্যানসহ ছয় জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। এ ছাড়া ১২ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তারা খালাস পেয়েছেন।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া তিন আসামি হলেন—বাবলু সরদার, টেকন সরদার ও গাজীয়ার সরকার।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—দেবগ্রাম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আতর আলী, রায়হান সরদার, হাবিবুর রহমান ওরফে হবি সরদার, হেলাল খান, জিল্লুর রহমান ও জিয়া মন্ডল।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী শামসুদ্দিন জুম্মন সাজার তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, রায়ের সময় আসামিদের মধ্যে ১২ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে ১০ জন খালাস পেয়েছেন। তবে, আসামি জিল্লুর রহমান ও জিয়া মন্ডলের সাজা হওয়ায় তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
মামলার নথি থেকে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১৪ অক্টোবর গোয়ালন্দ থানাধীন ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন চলাকালে সাবেক চেয়ারম্যান আতর আলীর ছেলে যুবলীগ নেতা বাবলু সরদারের সঙ্গে দেবগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম বাবলু সরদারের কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে আতর আলীর নেতৃত্বে বাবলু সরদার, টোকন সরদার, রায়হান সরদার, গাজীর সরদারসহ বেশ কয়েকজন আতর আলী বাজারের তিন রাস্তার মোড়ে অবস্থান নেয়। হাফিজুল চেয়ারম্যান সমর্থকরা সেই পথ দিয়ে ফেরার পথে তাদের আটকে মারধর করা হয়। সেই সময় সেখান দিয়ে ফিরছিলেন রেজাউল করিম ওরফে আবু ডাক্তার। তাকেও আটক করে মারধর করা হয়। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তাকে উদ্ধার করে রক্তাক্ত অবস্থায় গোয়ালন্দ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই মারা যান আবু ডাক্তার। এ ঘটনায় মো. মোবারক মোল্লা বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন।
মামলার পরে ২০২২ সালের ৫ অক্টোবর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।

আদালত প্রতিবেদক