মানিকগঞ্জে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন
‘মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক’— বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অমর সেই উচ্চারণ যেন শুক্রবার সন্ধ্যায় আবারও প্রাণ ফিরে পেল মানিকগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে। কবিগুরুর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও স্মরণানুষ্ঠান।
সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন ভরে ওঠে সাহিত্যপ্রেমী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও তরুণ শিক্ষার্থীদের পদচারণায়। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল এক আবেগঘন, নান্দনিক ও সংস্কৃতিময় পরিবেশ। যেন কবিগুরুর শব্দ, সুর আর দর্শন মিলেমিশে তৈরি করেছিল এক অনির্বচনীয় অনুভূতির আবহ।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই পরিবেশিত হয় জাতীয় সংগীত ও রবীন্দ্রসংগীত। পরে কবিগুরুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার সেই মুহূর্তে উপস্থিত দর্শনার্থীদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ে এক নীরব আবেগ।
আলোচনা পর্বে জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, বাংলা সাহিত্য, সংগীত, দর্শন ও সংস্কৃতির আকাশে রবীন্দ্রনাথ এক অনন্ত দীপশিখা। তাঁর সাহিত্যকর্ম শুধু বাঙালির হৃদয়ে নয়, বিশ্বমানবতার চেতনাতেও আজ সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। মানবতা, প্রেম ও অসাম্প্রদায়িকতার যে বাণী তিনি ছড়িয়ে গেছেন, তা যুগে যুগে মানুষকে আলোর পথ দেখাবে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম বলেন, রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য মানুষকে মানবিকতা, সৌন্দর্যবোধ ও মুক্তচিন্তার শিক্ষা দেয়। বর্তমান প্রজন্মকে সংস্কৃতি ও নৈতিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করতে রবীন্দ্রচর্চার কোনো বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে স্থানীয় শিল্পীরা পরিবেশন করেন কবিগুরুর গান, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্যনাট্য। ‘আজি ঝরঝর মুখর বাদরদিনে’, ‘আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে’ সহ বিভিন্ন রবীন্দ্রসংগীতের সুরে পুরো মিলনায়তনে সৃষ্টি হয় এক আবেগময় পরিবেশ। আবৃত্তিকারদের কণ্ঠে উচ্চারিত হয় প্রেম, প্রকৃতি, মানবতা ও জীবনের গভীর দর্শনে ভরা কবিগুরুর অমর পঙক্তিমালা।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাঙালির সাহিত্য-সংস্কৃতির শেকড়কে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এবং মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত রাখতে এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। সবশেষে সমবেত কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় বিশ্বকবির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সাংস্কৃতিক আবেগে ভরা এই আয়োজন।

আহমেদ সাব্বির সোহেল, মানিকগঞ্জ