সাতক্ষীরায় ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি আছে, নেই যানবাহনের লাইন
সাতক্ষীরা সদর, তালা ও কলারোয়ায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে এখন আর দেখা মেলে না তেল নিতে আসা বাইকারদের দীর্ঘ লাইন, এমনকি সেচযন্ত্রের জন্য ডিজেল নিতে আসা কৃষক এবং যানবাহনচালকদের লাইনও নেই। বরং তিনটি উপজেলার ১৭টি ফিলিং স্টেশনে বাইকারদের জন্য অপেক্ষা করছেন বিক্রেতারা। বিক্রিও কমেছে জ্বালানি তেলের। সব মিলিয়ে ফিলিং স্টেশনগুলোতে গত দুই মাসের রূপ পাল্টে গেছে
আজ সোমবার (৪ মে) দুপুর ও বিকেলে সাতক্ষীরা সদরের মজুমদার ফিলিং স্টেশন, তালার মদিনা ফিলিং স্টেশন, কলারোয়া সোনিয়া, ইউরেকা, হোসেন ফিলিং স্টেশন এবং কাজিরহাটের ডেলমা ফিলিং স্টেশন ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
কলারোয়ার কাজিরহাট ডেলমা ফিলিং স্টেশনে কোনো বাইক চোখে পড়েনি। ডিজেল নিতে আসা কৃষক কিংবা অন্য যানবাহনও দেখা যায়নি। এই ফিলিং স্টেশনে গতকাল রোববার ৮৯৫ লিটার পেট্রল ও তিন হাজার ৪০ লিটার ডিজেল বিক্রি হয়েছিল। তবে আজ সকাল থেকে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত পেট্রল ৭০৫ লিটার এবং ডিজেল দুই হাজার ২৩৮ লিটার বিক্রি হয়। আর সংকটকালে মার্চ ও এপ্রিল মাসে চার ঘণ্টায় তিন হাজার লিটার পেট্রল ও আট ঘণ্টায় ৯ হাজার লিটার ডিজেল বিক্রি হয়ে যেত।
কলারোয়া পৌর সদরের ইউরেকা ফিলিং স্টেশনে দেখা গেছে, অনেক সময় পর পর একটা-দুইটা করে মোটরসাইকেল আসছে তেল নিতে। তবে দেখা যায়নি ডিজেল নিতে আসা কোনো যানবাহন। গতকাল রোববার এই স্টেশন থেকে পেট্রল দুই হাজার ৭৮১ লিটার, অকটেন দুই হাজার ১০০ লিটার এবং ডিজেল তিন হাজার ৩৬৬ লিটার বিক্রি হয়েছিল। তবে আজ সোমবার সকাল থেকে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ডিজেল ১৫৬২ লিটার এবং পেট্রল এক হাজার ৮৪৬ লিটার বিক্রি হয় আর অকটেন না থাকায় বিক্রি হয়নি। অথচ সংকটকালে মার্চ ও এপ্রিল মাসের শুরু থেকে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যেত বরাদ্দ পাওয়া গড়ে তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার লিটার পেট্রল, তিন হাজার লিটার অকটেন। আর মার্চ মাসের আগে প্রতিদিন বিক্রি ছিল পেট্রল তিন হাজার লিটার, অকটেন দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার লিটার এবং ডিজেল গড়ে চার থেকে সাড়ে চার হাজার লিটার।
মজুমদার ফিলিং স্টেশনে গতকাল রোববার ডিজেল বিক্রি হয় সাড়ে তিন হাজার লিটার এবং পেট্রল এক হাজার ২০০ লিটার। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত তিন হাজার লিটার ডিজেল এবং পেট্রল বিক্রি হয়েছে ৮৯৫ লিটার।
এভাবে সাতক্ষীরার তিনটি উপজেলার ১৭টি ফিলিং স্টেশনসহ জেলার ২৮টি ফিলিং স্টেশনে গত দুই মাসের চিত্র পাল্টে গেছে বলে জানা গেছে। বেশিরভাগ স্টেশনে বিক্রি কমে প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। ফিলিং স্টেশনগুলো থেকে ধীরে ধীরে খুলে নেওয়া হচ্ছে চালকদের লাইন রক্ষার জন্য সারি করে স্থাপন করা বাঁশ। তেলের নতুন দাম নির্ধারণের পর থেকে কমতে শুরু করে বাইকারদের ভিড়।
সাতক্ষীরা শহরের এবি খান ফিলিং স্টেশনে ট্রাকের জন্য তেল নিতে আসা পলাশ হোসেন বলেন, জ্বালানি ফুরিয়ে গেছে, তাই ডিজেল নিতে এসেছি। শুধু আমি একাই, ভিড় ছাড়াই ৯০ লিটার তেল নিয়েছি। এখন আর আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। ভালোই লাগছে।
তালার মদিনা ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা বাইকার আজমির হোসেন বলেন, কোনো লাইন নেই, মোটরসাইকেল নেই। ফ্রি পেয়ে আমার বাইকে ট্যাংকি ফুল করে তেল নিয়ে নিলাম।
কলারোয়ার সোনিয়া ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. সোহাগ হোসেন জানান, সংকটকালে চাহিদামতো তেল পাননি ডিপো থেকে। প্রতি দুই থেকে তিন দিন পরপর শুধু পেট্রল পেতেন তিন হাজার লিটার করে, যা বিক্রি শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যেত। আর এখন তেল বিক্রি করার লোক পাওয়া যাচ্ছে না।
কলারোয়ার ইউরেকা ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী আমজাদ হোসেন গ্রাহকের চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখেই তারা নিয়মিত তেল বিক্রি করেছেন বলে জানান। তবে এখন কিছুটা কমেছে ক্রেতা। বিশেষ করে বিভিন্ন বাজারে ডিজেলের যে এজেন্ট রয়েছে তাদের তেল বিক্রি নিয়মিত না থাকায় পাম্পগুলোতে কৃষকের ভিড় ছিল বেশি। এখন তাদের স্বাভাবিক বিক্রিও নেই। অনেকেই বাড়তি রিজার্ভ করে রাখায় এমন অবস্থা।
কলারোয়ার কাজিরহাট ডেলমা ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী মনিরুল ইসলাম বলেন, তেল পাব না এমন ধারণা থেকেই মানুষ হয়তো তেল কেনার প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়ে। এ ক্ষেত্রে যাদের প্রয়োজন নেই তারাও এসেছে পাম্পে, যাদের প্রয়োজন তারা তো এসেছেই। ফলে অনেক ক্ষেত্রে যাদের প্রয়োজন তারা বঞ্চিত হয়েছে বাড়তি চাপের কারণে।
পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড খুলনা ডিপোর ডিএমও আব্দুল লতিফ বলেন, আমাদের ডিপোতে পর্যাপ্ত তেল মজুত ছিল। কোনো সংকট ছিল না। মার্চ এপ্রিল মাসের আগে মাসগুলোতে যেভাবে তেল দেওয়া হতো সেই ভাবেই মার্চ এপ্রিল মাসেও পাম্পে তেল দিয়েছি। মূলত, অনেকেই সংকট হবে এমন আশংকায় পড়ে বেশি তেল কিনে রেখেছে কয়েক মাসের। দাম বাড়ার সাথে সাথে পাম্পগুলোতে স্বাভাবি অবস্থা ফিরে এসেছে।

কে এম আনিছুর রহমান, সাতক্ষীরা (সদর, কলারোয়া, তালা ও ভোমরা স্থলবন্দর)