কারা ফটকে শেষ বারের মতো সন্তানের মুখ দেখলেন বাবা
রাজশাহীতে কারা ফটকে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে শেষবারের মতো সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছেলের মুখ দেখার সুযোগ করে দিয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।
আজ রোববার (৩ এপ্রিল) দুপুরে কারাগারের কঠোর নিরাপত্তায় দুলাল নামে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দিকে মৃত সন্তানের (আব্দুল্লাহ) মুখ দেখার সুযোগ করে দেয় রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ। এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।
কারাবন্দি দুলাল মিয়া যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ২০২০ সাল থেকে রাজশাহী কারাগারে রয়েছেন। তিনি কারাগারে থাকায় সংসার চালাতেন একমাত্র ছেলে মো. আব্দুল্লাহ (২৪)। সেই ছেলে গতকাল শনিবার (২ মে) এক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ রোববার সকালে তার মৃত্যু হয়।
আব্দুল্লাহর আকস্মিক এই মৃত্যুর খবরে পুরো পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। কারাগারে থাকা বাবা দুলালও সন্তানের মৃত্যু সংবাদে ভেঙে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে শেষবারের মতো সন্তানের মুখ দেখার আকুতি জানান স্বজনরা। এমন পরিস্থিতিতে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে শেষবারের মতো সন্তানের মুখ দেখার কথা মুঠোফোনে জানান নিহত আব্দুল্লাহর ফুফু সেলিনা বেগম। পরিবারের এই আবেদন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে কারা মহাপরিদর্শকের (আইজি প্রিজন্স) মৌখিক নির্দেশনায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এরপর রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আল মামুনের তত্ত্বাবধানে কারাগারের ফটকে নিয়ে আসা হয় নিহত আব্দুল্লাহর মরদেহ। নিরাপত্তা বিধি মেনে সেখানেই বন্দি দুলালকে শেষবারের মতো সন্তানের মুখ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়।
এ সময় কারা ফটকে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। ছেলের নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন দুলাল। অঝোরে কাঁদতে থাকেন তিনি। উপস্থিত কারারক্ষী ও স্বজনদের অনেকেই এই দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, আইন ও নিরাপত্তা বজায় রেখে মানবিক দিক বিবেচনায় এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্দিদের জীবনেও যে আবেগ ও সম্পর্কের মূল্য রয়েছে—এ ঘটনার তারই উদাহরণ।
এ বিষয়ে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আল মামুন বলেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামির বোন সকালে ফোন করে বিষয়টি জানান। তারা কোনো আবেদন করেননি। এটা একটা মানবিক বিষয় ছিল। তাই নিহত আব্দুল্লাহর মরদেহ কারাগারের ফটকে নিয়ে আসতে বলা হয়, পরে তারা নিয়ে আসে। এরপর নিহত ছেলের মৃত মুখ শেষ বারের মতো দেখার সুযোগ পান আসামি দুলাল।

আবু সাঈদ রনি, রাজশাহী (সদর-গোদাগাড়ী-পবা)