৬৫ বছরের স্বপ্ন পূরণে রূপপুর, কর্মসংস্থানে নতুন দিগন্ত
দীর্ঘ ৬৫ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে স্বপ্ন এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জ্বালানি লোড করার মাধ্যমে শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া। এই প্রকল্পের হাত ধরে গত ১০ বছরে কেবল বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নই নয়, বরং পাবনা অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে ঘটেছে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রূপপুর প্রকল্পের কারণে গত এক দশকে প্রায় ২১ হাজার মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়া, বেলারুশ ও ইউক্রেনসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ৫ হাজার বিদেশি নাগরিক কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া দেশের প্রায় ১৬ হাজার মানুষ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দেশি-বিদেশি কোম্পানিতে শ্রমিক ও কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োজিত আছেন। এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই অঞ্চলের অন্তত ১ লাখ মানুষ উপকৃত হচ্ছে।
ব্র্যান্ড প্রমোটার তরুণীর মরদেহ উদ্ধার, পাশে চিরকুট
ঈশ্বরদীর সাহাপুর ও পাকশি ইউনিয়নের যে বিশাল এলাকাজুড়ে আজ প্রকল্প ও আবাসন এলাকা (গ্রিনসিটি), একসময় তা ছিল জঙ্গল আর বালুচরে ঘেরা। দিয়ার সাহাপুর গ্রামের শতবর্ষী বৃদ্ধ পিয়ার আলী স্মৃতিচারণ করে বলেন, একসময় গ্রিনসিটি এলাকায় বাঘ, চিতাবাঘ আর সাপের ভয়ে দিনের বেলাতেও মানুষ আসত না। ১৯৬১ সালে সাইট সিলেকশনের পর কিছু ভবন হলেও সেগুলো পরিত্যক্ত হয়ে জঙ্গলে পরিণত হয়েছিল। রাতে আইকে রোডে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকত। আর আজ সেখানে ২৪ ঘণ্টা কোলাহল।
বর্তমানে গ্রিনসিটি এলাকায় বিদেশিদের কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বিশাল এক বাণিজ্যিক বলয়। বিদেশি নাগরিকদের কেনাকাটা সহজ করতে স্থানীয় দোকানিরা দোকানের সাইনবোর্ড লিখেছেন রুশ ভাষায়। যোগাযোগ সহজ করতে অনেকে রুশ ভাষা শিখছেন অথবা রুশ ভাষা জানা দোভাষী নিয়োগ দিচ্ছেন।
এক চোখ নিয়ে বাছুরের জন্ম, এলাকায় চাঞ্চল্য
রুশ ভাষা জানা হিমেল হোসেন নামের এক যুবক জানান, তিনি একটি দোকানে দোভাষী হিসেবে কাজ করছেন। দোকানের মালিক সবুজ চৌধুরী জানান, দোভাষী রাখার ফলে রাশিয়ানদের সঙ্গে সখ্যতা বেড়েছে এবং বেচাকেনা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
প্রকল্পে কর্মরত অ্যালেক্সি নামের এক রুশ প্রকৌশলী দোভাষীর মাধ্যমে জানান, এখানকার মানুষ অত্যন্ত বন্ধুসুলভ ও সহযোগী। পাঁচ বছর ধরে এখানে বসবাস করে তিনি কোনো ধরনের প্রতারণার শিকার হননি।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাবেক প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকবর বলেন, এই প্রকল্প কেবল পাবনা নয়, গোটা বাংলাদেশের আমূল পরিবর্তন ঘটাবে। বৈশ্বিক অস্থিরতার এই সময়ে জ্বালানি ক্ষেত্রে এটি একটি অবিস্মরণীয় মাইলফলক। গত ২৮ এপ্রিল ইউনিট-১-এ নতুন জ্বালানি লোডিং শুরুর মাধ্যমে কার্বনমুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ। দক্ষ জনবলের মাধ্যমে এই কেন্দ্রের সঠিক ব্যবহার দেশের বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধান ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ বি এম ফজলুর রহমান, পাবনা