সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকসহ দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকসহ দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অনুমতি পাওয়া অপরজন হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিন। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। তিনি সাবেক বিচারপতি মানিক ও অধ্যাপক জামালকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সুবিধাজনক সময়ে একদিন করে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চান। শুনানি শেষে তার আবেদন মঞ্জুর করে অনুমতি দেন আদালত।
ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম সাবেক বিচারপতি মানিক ও অধ্যাপক জামালকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সুবিধাজনক সময়ে একদিন করে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। এই দুই আসামি বর্তমানে ভিন্ন ভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র রাকিব হাসান হত্যা মামলায় সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী নীল দলের শিক্ষক হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন বর্তমানে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন। গত ১১ মার্চ সকালে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট থেকে ‘বঙ্গবন্ধু শান্তি পদযাত্রা-২০২৬’ নামে একটি কর্মসূচি পালনের সময় তাকে গ্রেপ্তার করে পল্টন থানা-পুলিশ। নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা, রাষ্ট্রবিরোধী মিছিলে অংশ নেওয়া এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
পরদিন ১২ মার্চ ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম অধ্যাপক জামালের জামিন আবেদন নাকচ করেন। ওই দিন আসামিপক্ষ কারাবিধি অনুযায়ী ডিভিশন সুবিধার আবেদন করলে আদালত তা বিবেচনার নির্দেশ দেন।
অধ্যাপক জামাল উদ্দীন গত বছরের ডিসেম্বরে ঢাবি ক্যাম্পাসে এবং গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ‘গণকান্না’ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক