সাত জেলায় বজ্রাঘাতে ১৪ জনের মৃত্যু
গাইবান্ধা, জামালপুর, পঞ্চগড়, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও ও বগুড়া জেলায় বজ্রাঘাতে ১৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মৃত্যুর এই ঘটনাগুলো ঘটে।
এনটিভি ও এনটিভি অনলাইন প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন :
পি এম লিটন, গাইবান্ধা (সাদুল্লাপুর, সুন্দরগঞ্জ)
গাইবান্ধা সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বজ্রাঘাতে চাচা-ভাতিজাসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছে।
আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের নতুন বাজার ভেকির মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন মো. জাহাঙ্গীর আলমের (সুজা মিয়া) ছেলে ফুয়াদ মিয়া, ছোটন মিয়ার ছেলে রাফি মিয়া এবং নবীর হোসেনের ছেলে মিজানুর রহমান।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, বিকেলের দিকে হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে যায় এবং বজ্রপাতসহ বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় তারা বাড়ির পাশের একটি রাস্তায় অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। একই সময়ে কাছাকাছি থাকা একটি গরুও মারা যায়।
এ ঘটনায় আহত শামীম মিয়াকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে।
একই গ্রামের তিনজনের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোকাহত পরিবারগুলোর আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে।
ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোখলেছুর রহমান মণ্ডল খবরটি নিশ্চিত করে বলেন, ‘এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আকস্মিক বজ্রাঘাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং একজন আহত হয়েছে। আহত ব্যক্তি বর্তমানে চিকিৎসাধীন।’
কৃষ্ণ চাকী, গাইবান্ধা
এনটিভির জেলা প্রতিনিধি জানিয়েছেন গাইবান্ধায় বজ্রাঘাতে আরও দুজন নিহত হয়েছেন। এরা হলেন ফুলছড়ি উপজেলার জামিরাচরের ঘোড়ার গাড়িচালক মানিক মিয়া এবং সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের লম্বর আলী। এ নিয়ে জেলায় বজ্রাঘাতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
নাহিদ হাসান, জামালপুর (সদর-মেলান্দহ)
জামালপুরে পৃথক স্থানে বজ্রাঘাতে চার গরুসহ এক কৃষক ও এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আরও দুজন আহত হয়েছেন। আজ বিকেল ৪টার দিকে জেলার সদর, মেলান্দহ ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন সদর উপজেলার লক্ষ্মীরচর ইউনিয়নের চরযথার্থপুর এলাকার কৃষক হাসমত আলী এবং মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী পৌরসভার কড়ইচড়া গ্রামের রাজীবের স্ত্রী গৃহবধূ মর্জিনা বেগম।
মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুর রহমান জানান, মেলান্দহে বাড়ির উঠানে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে মর্জিনা বেগম গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তার তিন বছর বয়সী একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।
অন্যদিকে, সদর উপজেলার চরযথার্থপুর ভাটিপাড়া এলাকায় বৃষ্টির মধ্যে গরু নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান হাসমত আলী। এ ঘটনায় তার চাচাতো ভাই আনোয়ার হোসেন আহত হন। তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মাহফুজুর রহমান সোহান বলেন, বজ্রাঘাতে হাসমত আলীর মৃত্যু হয়েছে এবং আরও দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
এদিকে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চিকাজানী ইউনিয়নের মণ্ডল বাজার এলাকায় বজ্রাঘাতে ইউপি সদস্য শাহীন ভাণ্ডারির চারটি গরু মারা গেছে।
গরুর মালিক শাহীন ভাণ্ডারি বলেন, আমার পাঁচটি গরু ছিল। বজ্রাঘাতে চারটি গরু মারা গেল। গরুগুলো কোরবানি ঈদে বিক্রি করার কথা ছিল। এ ঘটনায় আমার অপূরণীয় ক্ষতি হলো।
সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, পঞ্চগড়
পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতেও বজ্রাঘাতে সারওয়ারদ্দী নামের এক চা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও দুই চা শ্রমিক।
আজ সকালে জেলার আটোয়ারী উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা গ্রামের একটি চা-বাগানে পাতা কাটার সময় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, নিহত সারওয়ারদ্দী (২৪) ওই গ্রামের আবু সামাদের ছেলে। আহতরা একই এলাকার মোস্তফা (৪৫) ও জাহেরুল ইসলাম (৪৩)। তারা বর্তমানে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ৬টার দিকে সারওয়ারদ্দীসহ কয়েকজন শ্রমিক চা পাতা কাটতে বাগানে যান। কাজ করার সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই সারওয়ারদ্দীসহ তিনজন গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সারওয়ারদ্দীর মৃত্যু হয়।
ধামোর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের মো. দুলাল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বজ্রাঘাতে এক চা শ্রমিক নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন।
হালিম খান, নাটোর
নাটোরের সিংড়ায় বজ্রপাতে সম্রাট (২৬) নামে এক কৃষি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এলাকাবাসী জানায়, সিংড়া উপজেলার চলনবিলের ডাহিয়া ইউনিয়নের ঠেঙ্গাপাকুড়িয়া এলাকায় ধান কাটার সময় আজ বিকেলে ঝড়ো বাতাশের সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়।
এ সময় মাঠে কর্মরত ধানকাটা শ্রমিক সম্রাট বজ্রাঘাতে লুটিয়ে পড়েন। সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে নাটোর সদর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত সম্রাট সিরাজগঞ্জ থেকে ধান কাটতে নাটোরে এসেছিলেন। তিনি শাহজাদপুর উপজেলার নগরডালা গ্রামের সাজা ফকিরের ছেলে।
এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে ডাহিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শারফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শলীফুল ইসলাম ইন্না (সিরাজগঞ্জ)
সিরাজগঞ্জেও বজ্রাঘাতের দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তাড়াশ উপজেলার বেত্রাশীন গ্রামে ও রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের মল্লিকচান গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের বেত্রাশীন গ্রামে গফুর আলীর ছেলে আব্দুল হামিদ (৫০) ও রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের মল্লিকচান গ্রামে আব্দুল হালিম শেখের ছেলে হাসান শেখ (২৫)।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম শফি বলেন, বিকেলে আব্দুল হামিদ বৃষ্টির মধ্যে বাড়ির পাশে জমিতে কাজ করছিলেন। এ সময় বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি।
তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো হাবিবুর রহমান বলেন, বজ্রাঘাতে কৃষক মারা যাওয়ার খবর পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
বিকেল ৫টার দিকে মল্লিকচান গ্রামে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিজ জমিতে কাটা ধান এক পাশে জড়ো করছিলেন হাসান। এ সময় হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে বজ্রাঘাতে তার মৃত্যু হয়।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান বলেন, বজ্রাঘাতে হাসান নামে এক যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
লুৎফর রহমান মিঠু, ঠাকুরগাঁও
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে পৃথক স্থানে বজ্রাঘাতে নারীসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ দুপুরে উপজেলার সৈয়দপুর ও বিকেলে কোষারাণীগঞ্জ ইউনিয়নে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের রশিদুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা আক্তার (৩৫) এবং কোষারাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ইলিয়াস আলী (৩৭)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল হাকিম।
পুলিশ জানায়, দুপুরে সেলিনা আক্তার ফসলি মাঠে কৃষিকাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে তিনি বজ্রাঘাতের শিকার হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, বিকেলে কোষারাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামের ইলিয়াস আলী নিজের জমির ফসল দেখতে মাঠে যান। এ সময় তিনি আকস্মিক বজ্রাঘাতের শিকার হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে ফসলি জমিতে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়।
একই দিনে দুই এলাকায় এমন মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে পীরগঞ্জ উপজেলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।
আতিকুর রহমান সোহাগ, বগুড়া
বগুড়ার গাবতলীতে ছাগল আনতে গিয়ে বজ্রাঘাতে সুমন (৩৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। আজ বিকেল পৌনে ৪টায় উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের মুচিখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সুমন মুচিখালী গ্রামের মো. আবদুল করিমের ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, ঘটনার আগে আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। ঝড়ো বাতাস এবং হালকা বৃষ্টি পড়তে শুরু করলে সুমন তার বাড়ির পাশের জমিতে থাকা নিজের ছাগল আনতে যান। জমিতে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরই বজ্রপাত ঘটলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
গাবতলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবু মুসা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহবুবের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা করা হয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক