ক্লাস চলাকালে খসে পড়ল পলেস্তারাসহ বৈদ্যুতিক ফ্যান
ক্লাস চলাকালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে বৈদ্যুতিক ফ্যানসহ ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে শ্রেণিকক্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার কবল থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে।
আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ৭১নং গজারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে তাদের দ্রুত শ্রেণিকক্ষ থেকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
জানা গেছে, ১৯৩৫ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯৬৮ সালে একটি একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। ইতোমধ্যে ওই ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। তাই কয়েক বছর ধরে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও এলাকাবাসী নতুন ভবনের দাবি করে আসছে।
গজারিয়া গ্রামের জুয়েল রানা নামে এক অভিভাবক জানান, দুপুরে হঠাৎ করে ওই ভবনের একটি অংশ বৈদ্যুতিক ফ্যানসহ ছাদের পলেস্তরা শ্রেণিকক্ষের ভেতরে ভেঙে পড়ে। ওই সময় শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। ভাগ্যক্রমে এতে কেউ হতাহত হয়নি। ঘটনার পরপর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আমরা দৌড়ে এসে আমাদের ছেলেমেয়েকে বাড়িতে নিয়ে যাই। ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহনাজ আক্তার বলেন, দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে প্রথম ক্লাস শেষ হওয়ার পরপর বৈদ্যুতিক ফ্যানসহ ছাদের পলেস্তারা শ্রেণিকক্ষের ভেতরে ভেঙে পড়ে। যে বেঞ্চের ওপর ভেঙে পড়ছে সে বেঞ্চে শিক্ষার্থী ছিল না। অল্পের জন্য সবাই রক্ষায় পায়।
প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, গত সপ্তাহে আমি এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙে ফেলার জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছি। এর আগেও এলাকাবাসী নতুন ভবনের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে ডিও লেটার দিয়েছে কিন্তু এ পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে দেবিদ্বার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিনহাজ উদ্দিন বলেন, আমি কয়েকবার ওই স্কুলে পরিদর্শনে গিয়েছি, স্কুলের ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আমি এটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে এসেছি। কিন্তু ওখানে ক্লাস করানো ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। আজকে দুপুরে শুনেছি স্কুলের বৈদ্যুতিক ফ্যানসহ ছাদের পলেস্তরা খসে পড়েছে। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি। আমি ওই স্কুলের নতুন ভবন চাহিদাপত্রে এক নম্বর তালিকায় রেখেছি। এটি নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গেও আমার আলাপ হয়েছে। দ্রুত ওই ভবনটি ভেঙে নতুন করে ভবন নির্মাণ করা হবে।

ইসহাক হাসান, কুমিল্লা (মুরাদনগর-দেবিদ্বার-ব্রাহ্মণপাড়া)