ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন ২৯-৩০ এপ্রিল
ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন আগামী ২৯ ও ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ঢাকা আইনজীবী সমিতির সম্মেলন কক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বোরহান উদ্দিন কোর্ট রিপার্টার্স এসোসিয়শনের সদস্যের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় এসব তথ্য জানিয়েছেন।
বোরহান উদ্দিন বলেন, আগামী ২৯ ও ৩০ এপ্রিল সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবার ঢাকা বারে ৩০ হাজার আইনজীবী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি, সম্পাদকসহ ২৩টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
বোরহান উদ্দিন বলেন, ৫ আগস্টের পরে সব জায়গায় নির্বাচনে হলেও ঢাকা বারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। এই নির্বাচন আইনজীবীদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে ঢাকা বারের দুটি দলের মধ্যে নির্বাচন হতো। একটি আওয়ামী লীগ এবং আরেকটি বিএনপি। কিন্তু এবার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার কারণে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। এবারের বিএনপি এবং জামায়াত ও স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করবেন অনেকে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বোরহান উদ্দিন বলেন, এবারের নির্বাচন স্বচ্ছ হবে। ভোটাররা কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন এবং গণনা স্বচ্ছতার সঙ্গেই হবে।
নির্বাচন কমিশনে জামায়াতের পক্ষে কম সদস্য রাখার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বোরহান উদ্দিন বলেন, ঢাকা বারের সংবিধানে ১০ সদস্যের নির্বাচন কমিশনের কমিটি গঠনের কথা বলা আছে। তবে এখানে কোন দল থেকে কত জন থাকবে তা বলা নেই। জামায়াতের পক্ষ থেকে তিনজন এখানে রয়েছে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র অনেক প্রার্থী রয়েছে তাদেরও নির্বাচন কমিশনে সদস্য দিতে হবে। তাই এখানে সেইভাবে নির্বাচন কমিশনে সদস্য রাখা হয়েছে।
বোরহান উদ্দিন বলেন, কোনো আওয়ামী লীগের সদস্য যদি ভোট দিতে আসেন বা মব সৃষ্টি হয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টা দেখবেন। নিরাপত্তার বিষয়ে যথেষ্ঠ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে এবারের নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা অংশগ্রহণ করছেন না। ৫ আগস্টের পূর্বে আওয়ামী লীগ (সাদা) প্যানেলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করত এবং জামায়াত ও বিএনপি (নীল) প্যানেলে নির্বাচন অংশগ্রহণ করত। তবে এবার বিএনপি (নীল) প্যানেলে থাকলেও জামায়াত (সবুজ) প্যানেলে এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে।
বিএনপি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন যারা
সভাপতি পদে আনোয়ার জাহিদ ভূইয়া, সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল করিম চৌধুরী, সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম খান, ট্রেজারার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান আনিস, সিনিয়র সহসাধারণ সম্পাদক ইলতুমিশ সওদাগার আ্যনি, সহ-সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান জুয়েল, লাইব্রেরি সেক্রেটারি খন্দকার মাকসুদুল হাসান, কালচালার সেক্রেটারি-মারজিয়া হিরা, অফিস সেক্রেটারি আফজাল হোসেন মৃধা, স্পোর্টস সেক্রেটারি সোহেল খান, সোস্যাল ওয়েলফেয়ার সেক্রেটারি এ এইচ এম ফিরোজ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক।
কার্যকরী সদস্য পদের প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেন—এ এইচ এম রেজাউনুল সৈয়দ রোমিও, ফিরোজা ইয়াসমিন, মামুন মিয়া, আদনান রহমান, নজরুল ইসলাম মামুন, নিজামউদ্দিন, সামিউল, মোজাহিদুল ইসলাম সায়েম, শেখ শওকত হোসেন, সৈয়দ সারোয়ার আলম নিশান।
জামায়াত থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন যারা
সভাপতি পদে এস এম কামাল উদ্দিন, সিনিয়র সহসভাপতি শহিদুল ইসলাম, সহসভাপতি লুতফর রহমান আজাদ, সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, ট্রেজারার আজমত হোসেন, সিনিয়র সহসাধারণ সম্পাদক শাহিন আক্তার, সহসাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ভূঁইয়া, লাইব্রেরি সেক্রেটারি শাহাদাত হোসেন, কালচালার সেক্রেটারি-বিলকিস আক্তার, অফিস সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক, স্পোর্টস সেক্রেটারি বাবুল আক্তার বাবু, সোস্যাল ওয়েলফেয়ার সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহাজাহান মোল্লা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ।
কার্যকরী সদস্য পদের প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেন বেলাল হোসেন, দিলরুবা আক্তার, জহিরুল ইসলাম, কাওসার আহম্মেদ,কাইয়ুম হোসেন নয়ন, মহসিন রেজা, ওমর ফারক, শাহ আলম, ইউনূস ও মোশারফ হোসেন।
অপরদিকে, স্বতন্ত্র হিসেবে সভাপতি পদে মোহাম্মদ ইউনুস আলী বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক পদে বলাই চন্দ্র দেব, মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, ট্রেজারার পদে রফিকুল ইসলাম, সহসাধারণ সম্পাদক পদে দেওয়ার আবুল হোসেন, কালচালার সেক্রেটারি পদে ওলিদা বেগম।

আদালত প্রতিবেদক