ব্ল্যাক রাইসে স্বপ্ন বুনছেন রহমত আলী
নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় প্রথমবারের মতো ব্ল্যাক রাইস (কালো ধান) চাষ করে নতুন সম্ভাবনার স্বপ্ন বুনছেন কৃষক রহমত আলী। প্রচলিত ধানের পাশাপাশি ব্যতিক্রমী এই পুষ্টিগুণসম্পন্ন ধান চাষে তিনি ইতোমধ্যে আশার আলো দেখছেন।
বিদেশি জাতের এই কালো ধান মূলত উচ্চ পুষ্টিমান ও বাজারমূল্যের কারণে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, আয়রন ও ভিটামিনসমৃদ্ধ উপাদান থাকায় স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে নিজের জমিতে এই ধানের চাষ শুরু করেন রহমত আলী।
উপজেলার সালামাবাদ ইউনিয়নের জোকা গ্রামে শেখ রহমত আলীর বাড়ি। পেশায় একজন ব্যবসায়ী হলেও কৃষির প্রতি তার আগ্রহ দীর্ঘদিনের। সেই আগ্রহ থেকেই প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করেছেন ঔষধি গুণসম্পন্ন এই ব্ল্যাক রাইস বা কালো ধান। ইতোমধ্যে তার জমিতে এ ধানের ভালো ফলন দেখা গেছে।
কৃষক রহমত আলী বলেন, ইউটিউব দেখে ও উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে অনলাইন থেকে এক কেজি ব্লাক রাইসের বীজ কিনি। অন্য ধানের পাশাপাশি ১০ শতক জমিতে এবারই প্রথম ব্লাক রাইস চাষ করেছি। ব্ল্যাক রাইস পুষ্টিগুণে ভরপুর, বিশেষ করে এতে জিঙ্কের পরিমাণ বেশি। এই চালের ভাত রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল বৃদ্ধি করে না, ফলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি উপকারী।
রহমত আলীর এই সফলতা দেখে ইতোমধ্যে একই গ্রামের আরও কয়েকজন কৃষক ব্ল্যাক রাইস চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং বীজ সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।
জয়পুর গ্রামের কৃষক মাস্টার মওদুদ বলেন, ব্যবসার পাশাপাশি শখের বসে বিভিন্ন জাতের ধানের চাষ করি। আমাদের ইউনিয়নে ব্ল্যাক রাইসের কথা শুনে দেখতে এসেছি। ধানটি দেখে ভালো লেগেছে, তাই এখান থেকে বীজ সংগ্রহ করে আগামী বছর এ ধানের চাষ করব।
উপসহকারী কৃষি অফিসার নাঈম শেখ বলেন, কৃষক শেখ রহমত আলী প্রথমে ব্ল্যাক রাইস চাষ সম্পর্কে জানতে আগ্রহ দেখান। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হলে তিনি অনলাইনের মাধ্যমে বীজ সংগ্রহ করে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে সফলভাবে চাষ করেন।
এ বিষয়ে কালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ব্ল্যাক রাইস একটি বিদেশি জাতের ধান। চাষে সঠিক পরিচর্যা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। এর বাজারমূল্য তুলনামূলক বেশি হওয়ায় কৃষকদের আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এখান থেকে ধান বীজ সংরক্ষণ করে আগামী বোরো মৌসুমে কালিয়া উপজেলায় চাষের জন্য বিতরণ করা হবে।

খাইরুল চৌধুরী, নড়াইল (কালিয়া)