২১ দিনের ট্রেনিংয়ে ‘চিকিৎসক’, এক বছরের কারাদণ্ড
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে হাফেজ ইব্রাহিম খলিল্লাহ (২৮) নামের এক হাতুড়ে চিকিৎসককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ছাড়া অনির্দিষ্টকালের জন্য ওই ডাক্তারের চেম্বারটি সিলগালা করা হয়েছে।
আজ রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের বেলগাছি গগণ হরকরা মোড় এলাকায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যৌথ অভিযান চালিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ওই ডাক্তারের চেম্বারটি সিলগালা করে দেয়।
অভিযানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার। আদালত পরিচালনায় সহযোগিতা করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক শামিমা আক্তার ও থানা পুলিশ।
হাতুড়ে চিকিৎসক ইব্রাহিম খলিল্লাহ শিলাইদহ ইউনিয়নের দাঁড়িগ্রামের রশিদ শেখের ছেলে এবং বেলগাছি মেডিকেল হলের মালিক।
ভ্রাম্যমাণ আদালত ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, হাফেজ ইব্রাহিম খলিল্লাহ কয়েক বছর আগে মসজিদের ইমামতি করতেন। এরপর মানবিক বিভাগ থেকে ২০১৪ সালে এসএসি পাস করেন। পরে একটি কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করেন। ২০২৩ সালে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মাত্র ২১ দিনের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ নেন। এরপর তিনি বেলগাছি গগণ হরকরা মোড় এলাকায় বেলগাছি মেডিকেল হল নামে একটি চেম্বার খুলে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষকে সব রোগের চিকিৎসা দেওয়া শুরু করেন।
সম্প্রতি কয়েকজন শিশু চুলকানি রোগের জন্য এই হাতুড়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি তাঁদের আলফাকোর্ট নামের একধরনের স্টেরয়েড ইনজেকশন দেন। ইনজেকশনের পর থেকে শিশুদের কারও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে উঠে, কারও মুখে গজাচ্ছে লোম। এতে অন্তত ১০ শিশুর জীবন বিপন্ন হতে বসলে ৮ মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরবার লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী সাত অভিভাবক।
আজ দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিলাইদহের রবীন্দ্র কুঠিবাড়ী - আলাউদ্দিন নগর সড়কে বেলগাছি গগণ হরকরা মোড়ের পূর্বপাশে অবস্থিত বেলগাছি মেডিকেল হল নামক একটি ওষুধের দোকান। সেখানে অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। ভিড় করেছেন উৎসুক জনতা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, এত দিন জানতাম ইব্রাহিম ডাক্তার। নামের আগে ডাক্তার লিখেন তিনি। সিল-প্যাডও আছে। অথচ আজ শুনলাম মাত্র ২১ দিনের ট্রেনিং নিয়ে তিনি ডাক্তারি করছেন। এভাবে মানুষের জীবন নিয়ে খেলা ঠিক নয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক মোছা. শামিমা আক্তার বলেন, মাত্র ২১ দিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে ইব্রাহিম ক্লিনিকের মতো চেম্বার খুলে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। এমনকি স্টেরয়েড জাতীয় চিকিৎসাও দিচ্ছিলেন। যা তিনি করতে পারেন না। এতে অনেকের জীবন বিপন্ন হতে বসেছে। এমন কয়েকজন শিশুর অভিভাবকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচিলনা করা হয়। তাঁর ভাষ্য, এখন হাতের কাছেই অনেক সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র আছে। সুতরাং সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এক হাতুড়ে চিকিৎসককে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া চেম্বারটিকে সিলগালা করা হয়েছে। জনস্বার্থে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এম আর নয়ন, কুষ্টিয়া (কুমারখালী-খোকসা)