আবু সাঈদ হত্যার দৃশ্য ধারণ করায় এনটিভিকে ধন্যবাদ দিল ট্রাইব্যুনাল
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ ও রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ে দুজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বাকি ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন–বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এ মামলায় ২৫ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। তার মধ্যে দুই নং সাক্ষী একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী ছিল বেসরকারি টিভি চ্যানেল ইন্টারন্যাল টেলিভিশন চ্যানেল লিমিটেড (এনটিভি) লাইভ ফুটেজ ও রংপুর প্রতিনিধি এ কে এম মঈনুল হক। এ ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে স্পষ্ট দেখা যায় আবু সাঈদ হত্যার সরাসরি দৃশ্য।
রায় ঘোষণার পর ট্রাইব্যুনাল শুরুতে পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘আবু সাঈদ হত্যার এনটিভির ভিডিও ফুটেজ আমাদের সহায়তা করেছে। এ জন্য ধন্যবাদ জানাই।’
এ বিষয়ে রায়ের পর চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আবু সাঈদ হত্যার একমাত্র সরাসরি দৃশ্য ধারণ করায় ও আদালতে প্রত্যক্ষ সাক্ষী দেওয়ায় এনটিভির প্রতিনিধি এ কে এম মঈনুল হককে ধন্যবাদ জানাই। তিনি ও তার ক্যামেরাম্যানের সাহসিকতার কারণে সারা দুনিয়ায় আবু সাঈদ হত্যার ঘটনা মানুষ দেখার সুযোগ পেয়েছিল। এ জন্য সাহসিকতার পরিচয় দেওয়ায় এনটিভিকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। ’
রায়ে দুজন পুলিশ সদস্য সরাসরি জড়িত ছিল বিধায় তাদের মৃত্যুদণ্ড, হুকুমের আসামি হিসেবে তিন পুলিশ সদস্যকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসিকে দশ বছর কারাদণ্ড এবং ২৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন–পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তারা গ্রেপ্তার রয়েছেন।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন–সাবেক সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ও সাবেক এসআই (নিরস্ত্র) বিভূতিভূষণ রায়।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ এ মামলার মোট আসামি ৩০ জন। এরমধ্যে মো. হাসিবুর রশীদসহ ২৪ আসামি পলাতক রয়েছেন।
ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আবু সাঈদ জুলাই আন্দোলনে অন্যতম শহীদ। তিনি নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন। সারা জাতি, পৃথিবীর সব মানুষ সেটা অবলোকন করেছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনেও এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি উঠে এসেছে। তাদের তদন্তেও এর অকাট্য প্রমাণ পেয়েছেন। এ মামলায় যাদের বিচারের সম্মুখীন করা হয়েছে। তারা (প্রসিকিউশন) বিশ্বাস করেন, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
আবু সাঈদ হত্যা মামলার ৩০ আসামির মধ্যে ছয়জন গ্রেপ্তার আছেন। তারা হলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম (৫ বছর), সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সাবেক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ। তাদের সকালে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামির মধ্যে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার মো. হাফিজুর রহমান, সাবেক সেকশন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান পলাশ, বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মন্ডল রয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক