এনটিভি অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পর নাহারখিলের পারভীনের পাশে চাটখিল প্রশাসন
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার নাহারখিল গ্রামের অসহায় ও ভূমিহীন নারী পারভীন আক্তারের জীবনসংগ্রাম ও চরম দুর্দশার গল্প গত ৬ জুন জনপ্রিয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভি অনলাইনে প্রচার হওয়ার পর তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। আজ বুধবার (১০ জুন) ঘর নির্মাণের জন্য নগদ অর্থ ও সরকারি টিন তুলে দেন চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান।
নিজস্ব কোনো বসতভিটাহীন এই নারী তার অবুঝ ৬ সদস্যের পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে লোকচক্ষুর অন্তরালে চরম কষ্ট, অনাহার ও অনিশ্চয়তার মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করে আসছিলেন। এনটিভিতে এই অবর্ণনীয় কষ্টের চিত্র অত্যন্ত নিখুঁত ও দায়িত্বশীলভাবে তুলে ধরা হলে বিষয়টি চাটখিল স্থানীয় প্রশাসনের সরাসরি নজরে আসে। প্রতিবেদনটি দেখার পরপরই চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান নিজে পারভীন আক্তারের খোঁজখবর নেন এবং তার পরিবারের জন্য জরুরি ও তাৎক্ষণিক টেকসই সহায়তার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। পরে চাটখিল উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পারভীনের মাথা গোঁজার ঠাঁই করার জন্য নতুন ঘর নির্মাণের টিন এবং নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়।
মানবিক এই সহায়তা সরাসরি পারভীনের হাতে তুলে দেওয়ার সময় চাটখিল ইউএনও মিজানুর রহমান বলেন, সমাজের প্রকৃত অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের তথা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব। বস্তুনিষ্ঠ গণমাধ্যম এনটিভির স্পেশাল রিপোর্টের মাধ্যমে আমরা পারভীন আক্তারের চরম দুর্দশার কথা জানতে পেরে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এই সরকারি সহযোগিতার ব্যবস্থা করেছি। এই সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি আমরা সমাজের বিত্তবান, সমাজসেবক ও মানবিক মানুষদেরও এমন অসহায় ও আশ্রয়হীন পরিবারের পাশে যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।
চাটখিল স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে আকস্মিক এই বড় ধরনের সাহায্য ও নতুন ঘর তৈরির নিশ্চয়তা পেয়ে আনন্দে উদ্বেলিত ও অশ্রুসিক্ত নয়নে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পারভীন আক্তার। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, আমাদের এই হাড়ভাঙা কষ্টের কথা আগে কেউ জানত না। এনটিভি আমার পুরো পরিবারের চরম দুর্দশার কথা মানুষের সামনে ও বড় স্যারদের কাছে তুলে ধরেছে বলেই আজ আমি প্রশাসনের এই অমূল্য সহায়তা পেয়েছি। এজন্য আমি এনটিভি পরিবার এবং উপজেলা প্রশাসনের প্রতি অন্তরের অন্তস্তল থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।
স্থানীয় সমাজ ও নাহারখিল গ্রাম সূত্রে জানা যায়, পারভীন আক্তার দীর্ঘদিন ধরে নিজের ৬ সদস্যের পরিবার নিয়ে ভাঙা ঘরে অত্যন্ত অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করছিলেন। তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের কারণে নিজের মাথা গোঁজার মতো একটি স্থায়ী বা মজবুত ঘর তৈরির কোনো ন্যূনতম সামর্থ্য তাঁর ছিল না। এমন শোচনীয় পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমে তাঁর এই জীবনসংগ্রামের গল্প প্রকাশিত হওয়ার পর চাটখিলের বিভিন্ন মহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক ইতিবাচক আলোচনা ও প্রশংসার ঝড় শুরু হয়।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ও সাহসী ভূমিকা এবং প্রশাসনের দ্রুত মানবিক ও সময়োপযোগী উদ্যোগ পারভীন আক্তারের পরিবারের জন্য নতুন অন্ধকারের মাঝে আশার আলো হয়ে এসেছে। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন স্থানীয় সামাজিক সংগঠনও যদি প্রশাসনের পাশাপাশি এভাবে এগিয়ে আসে, তবে পরিবারটি খুব দ্রুত স্থায়ীভাবে অর্থনৈতিকভাবে পুনর্বাসিত হতে পারবে। গণমাধ্যমের এই ইতিবাচক সমাজ বিনির্মাণের ভূমিকা এবং প্রশাসনের মানবিক সহায়তার এই যৌথ উদ্যোগ অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে একটি অনন্য ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন চাটখিলবাসী।

আবদুল মোতালেব, নোয়াখালী (চাটখিল-সেনবাগ-সোনাইমুড়ি)