ঘোড়ার মাংস ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধের দাবিতে মানববন্ধন
সারাদেশে গরুর মাংসের দাম বৃদ্ধির সুযোগে একটি অসাধু চক্র গোপনে অসুস্থ, মুমূর্ষু ও মৃত ঘোড়ার মাংস বিক্রি করছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন সেভ দ্য ন্যাচার অব বাংলাদেশ। এই অপতৎপরতা বন্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোড়ার মাংস ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করার দাবিতে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সংগঠনের চেয়ারম্যান আ ন ম মোয়াজ্জেম হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রাণিকল্যাণ আইন ২০১৯, পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইনসহ প্রচলিত আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় দুষ্কৃতকারীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া ও ইসরায়েলসহ বিশ্বের অনেক দেশে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতে ঘোড়া জবাই ও এর মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ। উন্নত দেশগুলো ঘোড়াকে খাদ্য নয়, বরং বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করে।
ঘোড়ার মাংসের ভয়াবহতা তুলে ধরে বক্তারা জানান, এই মাংসে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ‘স্যালমোনেলা’ ও ‘ট্রিকিনেলা’ ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি শতভাগ। এছাড়া ঘোড়াকে ব্যথা নাশক হিসেবে দেওয়া ফিনাইলবুটাজন ওষুধ মানুষের দেহে প্রবেশ করলে অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া বা ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি করে।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, বাণিজ্যিক বা রেসের ঘোড়াকে আজীবন বিভিন্ন স্টেরয়েড ইনজেকশন দেওয়া হয়, যা মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকলাঙ্গ করে দিতে পারে। এছাড়া ঘোড়ার কলিজা ও কিডনিতে থাকা বিষাক্ত ভারী ধাতু ‘ক্যাডমিয়াম’ এবং উচ্চমাত্রার লবণ ও চর্বি কার্ডিয়াক রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন—বাংলাদেশ এনিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আদনান আজাদ, সাবেক যুবনেতা সাইদুর রহমান সোহেল, শিক্ষাবিদ মোহাম্মদ সোহেল, গবেষক আসাদ পারভেজ, দ্বীপান্বিতা হৃদি, ফরহাদ জামান রুদ্র, বিনয় চাকমা ও জুলাই যোদ্ধা জিয়াউর রহমান খন্দকারসহ আরও অনেকে।
বক্তারা অবিলম্বে জনস্বার্থে ঘোড়ার মাংসের অবৈধ বাণিজ্য বন্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক