দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ২৭৬৯ মার্কিন ডলার
বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় দুই হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলকে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।
আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের নবম দিনে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান মাথাপিছু আয় দুই হাজার ৭৬৯ ডলার। সরকার বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন, ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি ও স্পোর্টস অর্থনীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে।
মাথাপিছু আয় বাড়াতে সরকারের গৃহীত প্রধান পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে মন্ত্রী আমির খসরু জানান, সরকার কেবল একটি নির্দিষ্ট খাতে নয়, বরং সামগ্রিক অর্থনীতির সব দিকে নজর দিচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ: উৎপাদন, নির্মাণ, আইটি ও কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যবসা সহজীকরণ ও শিল্প-সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই): নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়ন সহজ করা এবং বাজারের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে অর্থনৈতিক গতিশীলতা আনবে।
রপ্তানি ও প্রবাস আয়: রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানের মাধ্যমে বৈদেশিক আয় বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া প্রবাসীদের দক্ষতা বাড়িয়ে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করা হচ্ছে।
দক্ষতা উন্নয়ন ও কৃষি: শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং কৃষি উৎপাদন ও গ্রামীণ অবকাঠামো শক্তিশালী করার কাজ চলছে। কারণ জনসংখ্যার বড় অংশ এখনো গ্রামাঞ্চলে বসবাস করে।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, এই পদক্ষেপগুলোর একটি অংশ চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরেই বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। বাকিগুলো স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
মন্ত্রী আমির খসরু বলেন, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা যা মানুষের আয় বাড়াবে, বেকারত্ব কমাবে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষিত রাখবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক