যুব উদ্যোক্তা তৈরিতে কাজ করছে সরকার : অর্থমন্ত্রী
যুব উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, যুব উদ্যোক্তা তৈরি এবং বেকারত্ব মোকাবিলায় সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক সহজ শর্তে ও স্বল্পসুদে অর্থায়নের বিভিন্ন পুনঃঅর্থায়ন (রিফাইন্যান্স) কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সিলেট-৩ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালেকের তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম- এর সভাপতিত্বে বিকেল ৩টায় সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য কোনো সুদমুক্ত ঋণ কর্মসূচি নেই। তবে সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে বেশ কয়েকটি পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা চালু করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে পরিচালিত কুটির, অতি ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র উদ্যোগে (সিএমএসই) নতুন উদ্যোক্তা পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আকার ১০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। এই স্কিমের আওতায় নতুন উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে জামানত ছাড়াই ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। এছাড়া জামানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
স্টার্টআপ খাতকে আরও সহায়তা দিতে ৫০০ কোটি টাকার ‘স্টার্টআপ ফান্ড’ গঠন করা হয়েছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই তহবিল থেকে উদ্যোক্তারা মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা পাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, ঋণের পাশাপাশি ইক্যুইটি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ৩৯টি তফসিলি ব্যাংকের অংশীদারিত্বে ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি পিএলসি’ প্রতিষ্ঠা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি স্টার্টআপ উদ্যোগগুলোকে ইক্যুইটি অর্থায়ন সহায়তা প্রদান করছে।
দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পিআইইউ-এসআইসিআইপি কর্তৃক বাস্তবায়িত ‘স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রাম (এসআইসিআইপি)’-এর আওতায় দেশের বিভিন্ন জেলায় আগ্রহী উদ্যোক্তাদের জন্য এক মাসব্যাপী (১০০ ঘণ্টা) উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, এই প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয় এবং সফলভাবে কোর্স সম্পন্নকারীরা ৫ হাজার টাকা প্রশিক্ষণ ভাতা পান। পাশাপাশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের ঋণ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রেও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
কুড়িগ্রাম-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুল আলমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, শিক্ষিত বেকারত্ব দেশের অন্যতম বড় জাতীয় চ্যালেঞ্জ। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বেকার যুবকদের বড় একটি অংশ সাধারণ শিক্ষা ধারার শিক্ষার্থী, কারিগরি বা বৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার শিক্ষার্থী নয়।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং দেশব্যাপী কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটাচ্ছে। এ লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা হচ্ছে, যাতে কর্মমুখী শিক্ষা প্রদান এবং দক্ষ জনশক্তির জন্য দেশ ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা যায়।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু প্রশিক্ষণ প্রদান নয়, বরং ব্যবহারিক দক্ষতার মাধ্যমে কর্মক্ষম জনশক্তি গড়ে তোলা, যাতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ লাভ করতে পারেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক