সংবিধান সংশোধনে বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করা হবে : চিফ হুইপ
সংবিধান সংশোধন বিষয়ে অচিরেই একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেছেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য একটা কমিটি হবে। সেখানে সব দলের প্রতিনিধি রাখতে চায় আনুপাতিক হারে। স্বতন্ত্র থেকেও আমরা রাখতে চাই। সবার মতামতকে নিয়ে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি কমিটি অচিরেই করব। আগামী রোববারের মধ্যে আপনারা দেখবেন হয়ত। খুব শিগগিরই এটা করব।
আজ বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের সংসদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন নুরুল ইসলাম মনি।
কত সদস্যের কমিটি করা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, এটা একটা উদ্ভূত পরিস্থিতি। এখানে সরকারি দলের যারা আইন বিশেষজ্ঞ আছেন, তাদের রাখতে চাই। বিরোধী দলের যারা আইন বিশেষজ্ঞ আছেন তাদের রাখতে চাই। আইন বিশেষজ্ঞ না থাকলেও অন্যান্য দলের প্রতিনিধি রাখতে চাই। সবমিলিয়ে ২০ বা ১৮ বা ১৫ সদস্যের কমিটি করতে চাই। এটা নির্দিষ্ট না।
সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, সংবিধান সংশোধনকে এমন পর্যায়ে নিতে চাই, যাতে বারবার আমাদের কাঁচি চালাতে না হয়।
সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি করলে বিরোধী দল থাকবে না এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে সরকারি দলের চিফ হুইপ বলেন, তাদের এ অবস্থান সঠিক হবে না। আজ বা কাল হোক সংবিধান সংশোধন আমাদের করতেই হবে। সংবিধান সংশোধন কমিটিতে তাদেরকে আমরা চাই। এক হাতে যেমন হ্যান্ডশেক হয় না, কাঁচির একটা অংশ দিয়ে যেমন চুল কাটা যাবে না, দুটোই লাগবে। আমরা সেটাই চাই ওনারা থাকুক। তারা কমিটিতে থাকবেন বলে আমরা আশা করি। চূড়ান্তভাবে তারা থাকবেন বলে আমরা আশা করি। কারণ সংবিধান সংশোধন ছাড়া আমাদের কোনো রাস্তা নেই। জুলাই সনদ অনুযায়ী এটা করা উচিত। এটা আমরা দেশের জন্যই করব। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বা আমার কোনো বিশেষ সুবিধা হবে? ওনার বিশেষ কোনো ক্ষতি হবে? যেটাতে দেশের জনগণের কল্যাণে হবে, তাতে দ্বিমত করার কিছু আছে বলে মনে করি না।
সরকারি দল সংসদকে কার্যকর করতে চায় বলে জানান চিফ হুইপ। তিনি বলেন, সংসদের মাধ্যমে দেশের সব সমস্যার সমাধান করতে চাই।
সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে সংসদ অধিবেশন কক্ষে শব্দ তৈরি হওয়ার ১ সেকেন্ড বা তার কম সময়ের মধ্যে শোষণ করতে সক্ষম ও প্রতিধ্বনিবিহীন সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন করার সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া সংসদ অধিবেশন কক্ষে ইন্টারনেটের ধীরগতি দূর করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে সংসদ এলাকায় পর্যাপ্ত সুপেয় পানি সরবরাহ ও আগামী ১০ তারিখের মধ্যে বাসা প্রস্তুতপূর্বক সংসদ সদস্যদের বরাদ্দের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
কমিটির সভাপতি ও চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও অংশগ্রহণ করেন মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, মো. শহিদুল ইসলাম, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, অলি উল্লাহ, সাইফুল আলম মিলন ও আবুল হাসনাত।

নিজস্ব প্রতিবেদক