অভিনেত্রীর ঝিলিকের মৃত্যু : জামিন মেলেনি স্বামী সাফিরের
রাজধানীর একটি হাসপাতালের আটতলা থেকে পড়ে অভিনেত্রী আসমা আক্তার ঝিলিকের মৃত্যুর ঘটনায় করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় স্বামী সাফি উল্লাহ ওরফে মহব্বতের (৪৫) জামিন নাকচ করেছেন আদালত।
আজ রোববার (২১ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ এ আদেশ দেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অপরাধ তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাশার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এসআই আবুল বাশার বলেন, গত ১২ জুন দুপুরে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আটতলার বারান্দা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় ঝিলিকের। এ ঘটনায় তার বড় ভাই মোজাম্মেল হক আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে ১৩ জুন ধানমন্ডি মডেল থানায় মামলা করেন।
এ মামলায় অভিনেত্রীর স্বামী সাফি উল্লাহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ড দেন আদালত। রিমান্ড শেষে ১৪ জুন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, তীব্র পেটে ব্যথা হলে সাফি উল্লাহকে ঝিলিক ও তার ভাই মোজাম্মেল ১০ জুন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়ার সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ মতে, তাকে ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সাফি উল্লাহর শারীরিক অবস্থা ও পরীক্ষা নিরীক্ষার রিপোর্ট দেখে ইবনে সিনা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসার পরামর্শ দেয়। তবে ইবনে সিনা হাসপাতালে সিট/কেবিন খালি না থাকায় ধানমন্ডির বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আটতলার ৮১৩নং কেবিনে ভর্তি করে রাখা হয়। তাকে দেখাশোনার জন্য ঝিলিক হাসপাতালে অবস্থান করে।
এজাহারে আরও বলা হয়, সাফি উল্লাহকে দেখতে শুক্রবার সকালে তার বোন, ভগ্নিপতি ও প্রথম পক্ষের ছেলে হাসপাতালে আসে। সুস্থ হওয়ায় সকাল ১০টার দিকে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এরপর ঝিলিক তার স্বজনদের হাসপাতালের বিলের জন্য ১৬ হাজার টাকা পাঠাতে বলেন। দুপুর সোয়া ১টার দিকে ঝিলিকের সঙ্গে ছোট বোন রেশমি আক্তারের ভিডিও কলে কথা হয়। এর ঘণ্টাখানেক পর সাফি উল্লাহ ঝিলিকের বাবাকে ফোন করে জানায়, ঝিলিক হাসপাতালের কেবিনের পেছনের খোলা বারান্দা দিয়ে পড়ে মারা গেছে।

আদালত প্রতিবেদক