জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ২০ হাজার ‘ফুয়েল কার্ড’ বিতরণ
জ্বালানি তেলের সংকট মোকাবিলায় চুয়াডাঙ্গার পেট্রোল পাম্পগুলোতে তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক ভিড় নিয়ন্ত্রণে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। সরবরাহ ও বিপণন ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে জেলায় ‘ফুয়েল কার্ড’ বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে দ্বিতীয় দিনের মতো জেলার প্রতিটি উপজেলা পরিষদে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
শুরুতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে কার্ড বিতরণ করা হলেও অতিরিক্ত ভিড় ও গ্রাহকদের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে পরবর্তীতে প্রতিটি উপজেলায় আলাদাভাবে কার্ড বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার সকালে বিভিন্ন উপজেলা পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, কার্ড প্রত্যাশীদের দীর্ঘ লাইন। গ্রাহকরা তাদের যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিয়ে ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করছেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর কাঙ্ক্ষিত কার্ড হাতে পেয়ে অনেকের মুখে স্বস্তির হাসি দেখা গেছে।
কার্ড নিতে আসা মোটরসাইকেল চালক নাজমুল হাসান জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ভিড় বেশি থাকায় আগে কার্ড নিতে পারেননি, তবে উপজেলা পর্যায়ে এসে সহজেই সংগ্রহ করেছেন। তবে কার্ড থাকলেও পাম্পে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হবে কি না, তা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেন তিনি।
আরেক গ্রাহক আবু সাঈদ জানান, পেশাগত কারণে প্রতিদিন তাকে মোটরসাইকেলে চলাচল করতে হয়, তাই এই কার্ড তার জন্য খুবই জরুরি।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ৩০ ও ৩১ মার্চ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সরাসরি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। ১ এপ্রিল থেকে কার্ডের মাধ্যমে তেল সরবরাহের কথা থাকলেও সময় বাড়িয়ে আগামী ৩ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ ২ এপ্রিল পর্যন্ত কার্ড বিতরণ কার্যক্রম চলবে।
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি. এম. তারিক-উজ-জামান জানান, গত দুই দিনে জেলাজুড়ে প্রায় ২০ হাজার ফুয়েল কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় সুশৃঙ্খল পরিবেশে আবেদন গ্রহণ ও কার্ড প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে জ্বালানি তেল সংগ্রহে বিশৃঙ্খলা কমবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘব হবে বলে আশা করছে জেলা প্রশাসন।

মো. আব্দুল্লাহ হক, চুয়াডাঙ্গা (সদর-আলমডাঙ্গা)