নদী-খাল নেই, তবুও হচ্ছে সাড়ে ১৩ কোটি টাকার সেতু
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার নয়াডিঙ্গি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে নদী, খাল কিংবা কোনো দৃশ্যমান পানি প্রবাহ না থাকলেও নির্মাণ করা হচ্ছে ২৯ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু। প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) এই প্রকল্প নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ, কৌতূহল ও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর স্পষ্ট অভিযোগ—জনস্বার্থের চেয়ে এখানে সরকারি অর্থের অপচয়ই বেশি হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নয়াডিঙ্গি এলাকায় মহাসড়কের পাশে একটি বৃহৎ পোশাক কারখানা গড়ে উঠেছে। প্রস্তাবিত সেতুর উত্তর পাশে রয়েছে আধাপাকা ও বহুতল ভবন এবং দক্ষিণ পাশে দোকানপাটসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনা। পুরো এলাকায় নদী, খাল বা স্থায়ী জলাশয়ের কোনো অস্তিত্ব নেই বলেই দাবি স্থানীয়দের। এলাকাবাসীর ভাষ্য, বর্ষা মৌসুমেও ওই এলাকায় উল্লেখযোগ্য পানি প্রবাহ দেখা যায় না। তাই প্রকল্প গ্রহণের আগে যথাযথ সমীক্ষা ও বাস্তবতা যাচাই হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। যেখানে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ জনপদে এখনো সেতুর অভাবে হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে, সেখানে শুষ্ক মাটিতে এমন ব্যয়বহুল সেতু নির্মাণকে চরম অযৌক্তিক ও ‘অহেতুক’ মনে করছেন সচেতন মহল।
আজ সোমবার (১৮ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, ধুমধাম করে সেতুর পাইলিংয়ের কাজ চলছে। তবে সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করে নির্মাণস্থলে প্রকল্পের ব্যয়, মেয়াদ ও অন্যান্য তথ্যসংবলিত কোনো সাইনবোর্ড বা প্রকল্প ফলক টাঙানো হয়নি। এ বিষয়ে ধানকোড়া ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম সাফ জানান, সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী ওই স্থানে কোনো নদী, খাল বা জলাশয়ের অস্তিত্ব কখনো ছিল না। বাস্তবতা বিবেচনা না করে এমন প্রকল্প হাতে নেওয়া সরকারি অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়।
স্থানীয় বাসিন্দা রেজা জামান জিপু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চারদিকে ঘরবাড়ি ও স্থাপনা, কোথাও পানির চিহ্ন নেই। জনগণের উপকারে না আসলেও এখানে বিপুল অর্থ লোপাট হচ্ছে।
তবে সেতু নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. ফজলুর রহমান প্রকল্পের পক্ষে যুক্তি দিয়ে জানান, প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। এখানে মূলত একটি আন্ডারপাস সুবিধা রাখা হবে, যাতে মহাসড়ক পারাপারে পথচারীদের ঝুঁকি কমে এবং ভবিষ্যতে সড়ক দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
সওজ মানিকগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, ভবিষ্যতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে একটি পুরোনো সেতুর সঙ্গে সংযোগ রেখে নতুন এ সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কোনো স্থানে আগের সেতু বা কালভার্ট থাকলে তা সহজে অপসারণ করা যায় না। বর্তমানে পানি প্রবাহ না থাকলেও ভবিষ্যতে ভারী বন্যা বা সড়ক সম্প্রসারণের প্রয়োজন বিবেচনায় রেখেই এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

রানা মাহবুব, মানিকগঞ্জ (সাটুরিয়া-ঘিওর)