ঈদযাত্রা ঘিরে শঙ্কা : মহাসড়কের বাড়ছে যানজটের চাপ
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন লাখো মানুষ। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যানজটমুক্ত চলাচল নিশ্চিত করা নিয়ে চালক ও যাত্রীদের মধ্যে গভীর শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মহাসড়কের প্রায় ১০০ কিলোমিটার অংশ কুমিল্লা জেলার ওপর দিয়ে যাওয়ায় এই বিশাল এলাকা জুড়ে যানজট নিরসনে প্রশাসনের প্রস্তুতি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা।
চালকদের প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে চলমান সংস্কার কাজ। কুমিল্লা সেনানিবাস সংলগ্ন এলাকা এবং দেবিদ্বারসহ বেশ কয়েকটি স্থানে রাস্তা মেরামতের কাজ চলায় যানবাহনের গতি ধীর হয়ে পড়ছে। ঈদযাত্রার মূল চাপ শুরু হওয়ার আগে এই সংস্কার কাজগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ না করলে তীব্র ভোগান্তির সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মহাসড়কে বিশৃঙ্খলার অন্যতম কারণ হিসেবে যত্রতত্র পার্কিং ও অবৈধ বাজারকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা।সরেজমিনে দেখা যায়, দাউদকান্দির গৌরিপুর, ইলিয়টগঞ্জ, চান্দিনা, নিমসার ও সদর দক্ষিণের পদুয়ার বাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে মহাসড়কের ওপরই বাস ও লরি পার্কিং করা হয়। অনেক স্থানে ফুটপাত দখল করে দোকানপাট বসানো হয়েছে এবং মহাসড়কের ওপরেই বসছে কাঁচাবাজার। বিশেষ করে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় নোয়াখালী ও চাঁদপুরগামী পরিবহনের এলোপাতাড়ি পার্কিং এবং যাত্রী ওঠানামার কারণে প্রায়ই স্থবিরতা সৃষ্টি হয়।
চালকরা বলছেন, বাজার এলাকাগুলোতে যানবাহনের জটলা এবং থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধ না করলে এবারের ঈদযাত্রায় দীর্ঘ সময় রাস্তায় আটকে থাকতে হবে। এছাড়া রাতের বেলা মহাসড়কে ডাকাতি বা ছিনতাইয়ের ভয় কাটাতে পুলিশি টহল আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন মাইক্রোবাস ও ট্রাক চালকরা।
চট্টগ্রাম থেকে তেলবাহী লরি চালক আসাদ উল্লাহ বলেন, শুধু কুমিল্লা অংশেই চার-পাঁচটা বাজার আছে। এসব বাজারের ভেতর দিয়ে যেতে হলে অনেক সময় লাগে। এখন আবার রাস্তার সংস্কার কাজও চলছে। কাজ শেষ না হলে এবারের ঈদ আমাদের রাস্তার মধ্যেই কাটাতে হবে।
বাস চালক আবদুল মজিদ বলেন, এখন আর সড়ক সংস্কার দরকার নেই। বরং রাতে বেশি পুলিশ দরকার, যাতে ছিনতাই বা ডাকাতির ঘটনা না ঘটে।
মাইক্রোবাস চালক অপু হোসেন বলেন, ঈদের সময় বাড়ি যাওয়া এবং আবার কর্মস্থলে ফেরার সময় পুলিশি টহল বাড়ানো দরকার। টহল বাড়লে চুরি-ডাকাতির ভয় কমবে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা জানিয়েছেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কের সব ধরনের সংস্কার কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মহাসড়ক দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও বাজার উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি চলছে।
ঢাকা–চট্টগ্রাম হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার শাহিনুর আলম খান বলেন, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অতিরিক্ত ২০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পদুয়ার বাজার ও নিমসারের মতো স্পটগুলোতে বিশেষ নজরদারি রাখা হবে যাতে কোনো যানবাহন অনিয়ম করতে না পারে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হলেও চালক ও যাত্রীদের প্রত্যাশা, কেবল পরিকল্পনায় সীমাবদ্ধ না থেকে মাঠ পর্যায়ে কঠোর নজরদারি ও কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি স্বস্তির ঈদযাত্রা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা