সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার ৪ সন্তানের জননী, গ্রেপ্তার ১
নরসিংদীর মাধবদীতে চার সন্তানের জননী (৪০) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে কাঁঠালিয়া ইউনিয়নে ঘটনাটি ঘটে। পরদিন শুক্রবার (৬ মার্চ) ভুক্তভোগী নারী মাধবদী থানায় অভিযোগ দায়ের করলে বিকেলেই একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে ভুক্তভোগী নারী তার মেয়েকে নিয়ে আড়াইহাজার পৌরসভা এলাকার মার্কেটে ঈদের শপিং করতে যান। মেয়েকে ঈদের জামা কিনে দিয়ে ইফতারের আগেই বাসায় পাঠিয়ে দেন তিনি।
এদিকে গত ৩-৪ দিন আগে থেকে কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খরিয়া গ্রামের রিদয় মিয়ার সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর মোবাইলে কথাবার্তা চলে। ভুক্তভোগী নারী আড়াইহাজার মার্কেটে এসেছেন রিদয় জানতে পেরে দেখা করতে চায়। পরে ভুক্তভোগী নারী একাই অটোযোগে রাতে মাধবদী থানার কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খামারদী পদ্মারকান্দা এলাকায় যান। সেখানে রাস্তায় কথা বলার একপর্যায়ে ভুক্তভোগী নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন রিদয়। বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হলে রিদয় ভুক্তভোগী নারীকে রাস্তা থেকে পুকুর পাড়ের দিকে টেনে নিয়ে যায়।
পুকুর পাড়ে আগে থেকে ওত পেতে থাকা আরও অজ্ঞাতনামা তিনজন ভুক্তভোগী নারীকে পুকুর পাড়ে ফেলে জোরপূর্বক সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। পরে ভুক্তভোগী নারীর মোবাইল ও টাকা কেড়ে নিয়ে আসামিরা তাকে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বলে। পরে ওই নারী তাৎক্ষণিক দৌড়ে পাশেই থাকা একটি পাওয়ারলোম কারখানায় গিয়ে আশ্রয় নেন এবং তাদেরকে বিষয়টি জানান। পরে ভুক্তভোগী নারী মাধবদী থানায় বিষয়টি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর আসামির মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করে রিদয় মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।
ঘটনাটি নিশ্চিত করে নরসিংদীর মাধবপুরে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, এই ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর সীমান্তবর্তী এলাকায় ঘটেছে। প্রথমে ভুক্তভোগী নারী আড়াইহাজার থানাকে জানালে তারা ঘটনাস্থলে এসে নরসিংদীর মধ্যে ঘটনা হওয়ায় আমাদের জানালে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কারও নাম বলতে পারেনি। শুধু মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে অভিযুক্ত রিদয়কে আমরা গ্রেপ্তার করি। সে প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে।
কামাল হোসেন আরও বলেন, আমরা বাকিদের পরিচয়ও শনাক্ত করেছি। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যহত রয়েছে। ইতোমধ্যে ভুক্তভোগী নারীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। আর আসামিকে আদালতে পাঠানো হবে।

শুভ্রজিৎ সাহা, নরসিংদী (সদর-পলাশ)