পাবনায় দাদি-নাতনি হত্যা : অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা, আটক ৩
পাবনার ঈশ্বরদীতে চাঞ্চল্যকর দাদি-নাতনি হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এই ঘটনায় গতকাল শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান বলেন, নিহত দাদি সুফিয়া বেগমের মেয়ে মর্জিনা খাতুন বাদি হয়ে গতকাল দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। কে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ওসি মো. মমিনুজ্জামান আরও বলেন, যেহেতু ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর, সেহেতু মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে।
এদিকে এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে শনিবার রাতে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আটকেরা হলেন–রাব্বি মন্ডল, শরিফুল ইসলাম। বাকি একজনের নাম জানা যায়নি।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, আটকদের থানা হেফাজতে রেখে বিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে ও জিজ্ঞাসাবাদে জোড়া হত্যার ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। খুব শিগগিরই মামলার রহস্য উদঘাটন হবে।
গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতের পর ঈশ্বরদী উপজেলার ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামে কান্নাকাটির শব্দ শুনে স্থানীয়রা বাইরে বের হলেও কিছুক্ষণ পর শব্দ থেমে গেলে সবাই নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান। পরদিন সকালে বাড়ির উঠানে দাদি সুফিয়া বেগমের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান স্বজনরা। এ সময় নাতনি জামিলাকে খুঁজে না পেয়ে চারদিকে অনুসন্ধান শুরু হয়। পরে বাড়ি থেকে কিছু দূরে সরিষা ক্ষেতে বিবস্ত্র অবস্থায় তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নিহত নাতনি জামিলা আক্তার উপজেলার কালিকাপুর দাখিল মাদ্রাসা দশম শ্রেণীর ছাত্রী ও হাফেজা ছিল। দাদি ও নাতনি একই বাড়িতে থাকতেন। কোনো পুরুষ মানুষ বাড়িতে ছিলেন না।
খবর পেয়ে রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার মো. শামীম হোসেন ও পাবনার পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সে সময় তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও হত্যার রহস্য উদঘাটনের আশ্বাস দেন।

এ বি এম ফজলুর রহমান, পাবনা